বিশৃঙ্খলা করলেই কঠোর হস্তে দমন : কক্সবাজারে যৌথ বাহিনীর হুঁশিয়ারি
মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:৪২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কক্সবাজারে আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে যৌথ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পসহ পুরো কক্সবাজার জেলায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত যৌথ বাহিনীর প্রেস ব্রিফিং ও মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে রামু ক্যান্টনমেন্টের ১০ পদাতিক ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আহমেদ জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে পর্যাপ্ত সংখ্যক সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের জন্য অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে এবং ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান প্রস্তুত ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শুধু ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র নয়, সব ভোটকেন্দ্রকে সমান গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে কোনো দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে অল্প সময়ের মধ্যেই যৌথ বাহিনী সেখানে পৌঁছাতে পারে। এ লক্ষ্যে একাধিকবার রিহার্সালও সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচন চলাকালে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া জানাতে বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর আরও জানান, অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবারের নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে ক্যাম্পগুলোতে অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে চেকপয়েন্ট, ক্যাম্প এলাকায় ফেন্সিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর মেরামত কাজও সম্পন্ন হয়েছে। ক্যাম্পের আশপাশে সেনাবাহিনী, এপিবিএনসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গারা যাতে কোনোভাবেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে যৌথ বাহিনী।
এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সুপতা জানান, গত ৩ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে মোট ৪৬টি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এসব অভিযানে চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, ডাকাত দলের সদস্য, কিশোর গ্যাং, চোরাকারবারি এবং বিভিন্ন মামলার আসামিসহ মোট ৫৯ জন অপরাধী ও ১ হাজার ১৪৯ জন রোহিঙ্গাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে ৬টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১৪ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১১৪টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, ৮ হাজার ৪৫০ পিস ইয়াবা, ২ হাজার ৩১১ লিটার দেশীয় মদ এবং ৪৯ লিটার বিয়ারসহ বিভিন্ন নাশকতা সৃষ্টিকারী সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন র্যাব-১৫-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফারুক, বিজিবি রামু সেক্টরের মেজর নাজমুস সাকিব, জি-২ (ইন্ট) মেজর ওমর ফারুক এবং কক্সবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার।
এ সময় যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করা হয়।
১২৩ বার পড়া হয়েছে