যেকোনো সময় নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য: তারেক রহমান
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৯:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সব নাগরিকের জন্য দিন-রাত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এমন একটি রাষ্ট্র গড়াই বিএনপির মূল লক্ষ্য, যেখানে মানুষ পরিবার নিয়ে নিশ্চিন্তে বসবাস করতে পারবে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর বনানী বাজারসংলগ্ন মাঠে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, গত ১৬ বছরে দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হয়েছে। এ সময় বহু মানুষ হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে সাম্প্রতিক জুলাই আন্দোলনে প্রাণহানি ও পঙ্গুত্ববরণের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা রক্ষা করাই এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে ধর্ম, বর্ণ কিংবা পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক বৈষম্যের শিকার হবে না। মানুষের মূল্যায়ন হবে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে। একই সঙ্গে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও শ্রমজীবীসহ সব শ্রেণির মানুষ যেন নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সেই নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।
নাগরিক নিরাপত্তার সঙ্গে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়লে অপরাধ কমে আসে। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি গৃহিণীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানান। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষি কার্ড’ চালু করে সরাসরি সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, গ্রামাঞ্চলের মানুষ এখনো প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়ে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে। এতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মানুষ অসুস্থ হওয়ার আগেই সচেতন হবে, যা একটি সুস্থ ও নিরাপদ সমাজ গঠনে সহায়ক হবে।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, গত দেড় দশকে উন্নয়নের নামে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, কিন্তু মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে রাষ্ট্র পুনর্গঠন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঢাকা-১৭ আসনের জনসভা ছাড়াও সোমবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাতটি সংসদীয় আসনে মোট আটটি জনসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এর আগে রোববার তিনি ঢাকা মহানগর উত্তরের ছয়টি আসনে জনসভায় অংশ নেন।
১২২ বার পড়া হয়েছে