মাদারীপুর-২ আসনে হিন্দু ভোটারই নির্ধারণ করবে জয়ের সমীকরণ
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৭:৫৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাদারীপুর-২ আসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট হয়ে উঠেছে জয়-পরাজয়ের প্রধান নিয়ামক। এ আসনের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত।
অতীতে প্রায় প্রতিটি নির্বাচনে এই সম্প্রদায়ের অধিকাংশ ভোট আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে গেলেও এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীক না থাকায় ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দ্বিধা ও বিভ্রান্তি।
এই সুযোগ কাজে লাগাতে মাঠে সক্রিয় বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া। আওয়ামী লীগের ঐতিহ্যগত ভোট ব্যাংক হিসেবে পরিচিত হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট নিজের পক্ষে নিতে তিনি দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি এবং বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির বিদ্রোহী হিসেবে পরিচিত মিল্টন বৈদ্য নিজেও হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়ায় কলস প্রতীকে সেই ভোট ধরে রাখার চেষ্টা করছেন।
মাদারীপুর সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন এবং রাজৈর উপজেলা নিয়ে গঠিত মাদারীপুর-২ আসনে মোট ১৪৫টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন ৪ লাখ ৩১ হাজার ৬ জন ভোটার। এর মধ্যে প্রায় দেড় লাখ ভোটার হিন্দু সম্প্রদায়ের, যার বড় একটি অংশ রাজৈর উপজেলায় বসবাস করেন।
রাজৈর উপজেলার বাসিন্দা মিল্টন বৈদ্য অতীতে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও নিজ সম্প্রদায়ের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পাননি। এবার বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলস প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত হলেও তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াননি। শুরুতে তার প্রচারণা দুর্বল থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার অবস্থান শক্ত হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী মিয়া শুরু থেকেই মাঠে সক্রিয় ও শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। প্রথম দিকে বিএনপির কিছু নেতা মিল্টন বৈদ্যকে সমর্থন দিলেও পরে কেন্দ্রীয় নির্দেশে সেই সমর্থন প্রত্যাহার করে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত হন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থী জাহান্দার আলী মিয়া ও বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মিল্টন বৈদ্যের মধ্যে। আর এই লড়াইয়ের ফল নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখবে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট-যার দিকেই এই ভোটের পাল্লা ভারী হবে, বিজয়ের সম্ভাবনাও তার দিকেই ঝুঁকবে।
১০৬ বার পড়া হয়েছে