কুমিল্লার ১১ আসনে ৯৩৪ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে
শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বিগত স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা জেলার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন প্রশাসন। জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের ১৭টি উপজেলার এক হাজার ৪৯১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯৩৪টি কেন্দ্র ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫২৮টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা রয়েছে এবং নতুন করে আরও ৮৪৮টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হচ্ছে।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতীতে সবচেয়ে বেশি সহিংসতা হয়েছে কুমিল্লার মেঘনা ও দেবিদ্বার উপজেলায়। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময় মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা, ভাওরখোলা ও মানিকারচর ইউনিয়নে সংঘর্ষে দুজন নিহত হন এবং আহত হন অর্ধশতাধিক মানুষ। একই বছর দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটে। এসব কারণে এবারের সংসদ নির্বাচনে এই দুই উপজেলার অধিকাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে।
দেবিদ্বার উপজেলায় মোট ১১৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭০টিকে ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে। কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় দলটি গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনকে সমর্থন দিয়েছে। ফলে এই আসনে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জসিম উদ্দিনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার রাকিবুল হাসান জানান, শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিতে ৯৮টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সব ভোটকেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। চৌদ্দগ্রামে ১২৭টি এবং মুরাদনগরে জেলার সর্বাধিক ১৫৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। দুই উপজেলায় শতভাগ কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। চৌদ্দগ্রামে বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদার বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। মুরাদনগরে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের সঙ্গে লড়ছেন জামায়াতের ইউসুফ হাকিম সোহেল।
কুমিল্লা জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দাউদকান্দিতে ১০৭টির মধ্যে ৭৭টি, বুড়িচংয়ে ৮৩টির মধ্যে ৭৫টি, নাঙ্গলকোটে ৯৭টির মধ্যে ৬৮টি, লালমাইয়ে ৫৫টির মধ্যে ৪৫টি এবং আদর্শ সদরে ১৩০টির মধ্যে ৫০টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।
মেঘনা উপজেলায় ৩৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৭টি ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার জানান, নদীবেষ্টিত চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের পাঁচটি কেন্দ্রে যাতায়াত জটিল হওয়ায় পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি দল মোতায়েন থাকবে। অন্য কেন্দ্রগুলোতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মু. রেজা হাসান বলেন, ‘পূর্ববর্তী নির্বাচনে সংঘটিত সহিংসতার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে শুধু ঝুঁকিপূর্ণ নয়, জেলার সব ভোটকেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।’
১২৩ বার পড়া হয়েছে