ফাদার মারিনো রিগনের ১০১তম জন্মবার্ষিকী পালন
সুন্দরবন উপকূলের মানুষ তাঁর কাছে চিরঋণী, বললেন বক্তারা
বৃহস্পতিবার , ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫:১৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষা, মানবসেবা ও সংস্কৃতির বিকাশে ফাদার মারিনো রিগনের অবদান অবিস্মরণীয়—এমন মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, ফাদার রিগনকে বাদ দিয়ে মোংলার ইতিহাস কল্পনাই করা যায় না। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় এই অঞ্চলের হাজারো মানুষ অন্ধকার থেকে আলোর পথে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে মোংলায় ফাদার মারিনো রিগনের ১০১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর সমাধি চত্বরে আয়োজিত স্মরণানুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বক্তারা। সেন্ট পল্স ক্যাথলিক চার্চ, সেন্ট পল্স উচ্চ বিদ্যালয়, মোংলা সরকারি কলেজ, ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, মোংলা নাগরিক সমাজ, হলদিবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সেবা সংস্থার উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।
সকাল ৯টায় শুরু হওয়া স্মরণানুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাদার রিগন শিক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সেভ দ্য সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ফাদার মারিনো রিগন শুধু মানবসেবাতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি; তিনি সুন্দরবন উপকূল অঞ্চলে মানব ও প্রকৃতির মুক্তি এবং উন্নয়নের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ দেশের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকৃতির প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা ছিল।
মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মো. নূর আলম শেখ বলেন, ফাদার রিগনের মস্তকে ছিল রবীন্দ্রনাথ, আর অন্তরে লালন। তিনি ইতালিতে বাংলাদেশের অঘোষিত রাষ্ট্রদূতের ভূমিকা পালন করেছেন। রবীন্দ্রনাথের ৪৮টি গ্রন্থ ও লালন সাঁইয়ের সাড়ে তিন শতাধিক গান তিনি ইতালীয় ভাষায় অনুবাদ করেন এবং লালন সংগীতে ঐশ্বরিক অনুভূতির সন্ধান পান।
সভাপতির বক্তব্যে সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ফাদার রিগন মোংলা অঞ্চলে ১৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সেন্ট পল্স স্কুল, হাসপাতাল ও সেলাই শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি নারীদের আত্মকর্মসংস্থানে তিনি বিশেষ ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব ও মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সেন্ট পল্স ধর্মপল্লীর পালক পুরোহিত ফাদার ফিলিপ মন্ডল, সাবেক পৌর মেয়র মো. জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদার, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মো. নূর আলম শেখ, মোংলা সরকারি কলেজের প্রভাষক শ্যামা প্রসাদ সেনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্মরণানুষ্ঠানে ফাদার মারিনো রিগনের জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয়। পরে তাঁর সমাধিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনের অংশ হিসেবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিকেলে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়।
১৩৯ বার পড়া হয়েছে