বাংলাদেশ ছাড়বো না, জনগণের পাশেই থাকবো: টাঙ্গাইলে জামায়াত আমির
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত কোনো ‘সিজনাল পলিটিশিয়ান’ নয়, বরং সব সময় জনগণের পাশে থাকা একটি আদর্শভিত্তিক দল।
তিনি বলেন, 'আমরা বসন্তের কোকিল নই যে নির্বাচন এলেই নতুন রঙে হাজির হবো। সাড়ে ১৫ বছরের নির্যাতন-জুলুমের মধ্যেও আমরা একদিনের জন্য জনগণকে ছেড়ে যাইনি।'
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দলটির নেতাকর্মীরা দফায় দফায় কারাবরণ, মামলা, হয়রানি ও ঘরছাড়া হয়েছেন। অফিসে প্রবেশ করতে পারেননি, তবুও দেশ ছেড়ে যাননি। 'ভবিষ্যতে সুদিন বা দুর্দিন যাই আসুক, আমরা বাংলাদেশ ছেড়ে কোথাও যাবো না'- যোগ করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, যারা একসময় নির্যাতনের শিকার ছিলেন, তাদেরই কেউ কেউ এখন ক্ষমতায় গিয়ে মানুষের ওপর চাঁদাবাজি, দখলবাজি, দুর্নীতি ও মামলা বাণিজ্যে জড়িয়েছেন। নির্বাচন সামনে রেখে ভোটার ও নির্বাচনী এজেন্টদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, 'আমার ভোট আমি দেবো, তোমারটাও আমি দেবো- সেই সংস্কৃতি শেষ। যুব সমাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে প্রস্তুত।'
জামায়াত আমির একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, প্রতিটি শিশু শিক্ষার সুযোগ পাবে, নাগরিকরা স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ পরিবেশ পাবে, কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে।
তার ভাষায়, 'সবাইকে সমান দেওয়াই ন্যায়বিচার নয়, যার যেটা ন্যায্য পাওনা তাকে সেটাই দিতে হবে। আইনের দৃষ্টিতে সাধারণ মানুষ ও রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী সবার বিচার সমান হতে হবে।'
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সমাজে বৈষম্য ও দুর্নীতির কারণেই যুবসমাজ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে সোচ্চার হয়েছে। তিনি নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শিশুদের শিক্ষা, যুবকদের কাজ, নারীদের নিরাপত্তা, ব্যবসায়ীদের নির্বিঘ্ন ব্যবসার পরিবেশ, কৃষকের উন্নত সরঞ্জাম এবং শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক সংগঠন। দলের শীর্ষ নেতাদের গুম, নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল, অফিস তালাবদ্ধ এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, 'এ ধরনের নিপীড়ন অন্য কোনো সংগঠনের ওপর হয়নি।'
তিনি আরও বলেন, 'জামায়াত মুক্ত হওয়ার পরও আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি করিনি, বরং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছি। চাঁদাবাজি বা অবৈধ পথে অর্থ উপার্জনের রাজনীতি আমরা করবো না।'
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- জামায়াতে ইসলামী ঢাকা উত্তরাঞ্চলের সদস্য মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, কেন্দ্রীয় গণপরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ ড. খলিলুর রহমান মাদানি, টাঙ্গাইল-১ আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফি, টাঙ্গাইল-২ আসনের প্রার্থী হুমায়ুন কবির, টাঙ্গাইল-৩ আসনের এনসিপি প্রার্থী সাইফুল্লাহ হায়দার, টাঙ্গাইল-৪ আসনের খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান জোহরা খাতুন জুই, ইত্তেহাদুল ওলামা টাঙ্গাইলের আমির মুফতি আব্দুর রহমান মাদানি, টাঙ্গাইল-৬ আসনের ডা. একেএম আব্দুল হামিদ, টাঙ্গাইল-৭ আসনের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবনে আবুল হোসেন ও টাঙ্গাইল-৮ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খানসহ জামায়াত ও ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ।
১৯৪ বার পড়া হয়েছে