জয়পুরহাটের বাইপাস সড়ক মৃত্যু ফাঁদ, নেই সংস্কার উদ্যোগ
শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:১৮ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার কাজ না হওয়ায় জয়পুরহাট শহরের দক্ষিণ বাইপাস সড়কটি বর্তমানে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
শহরের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে তেঘর রেলগেট হয়ে দেবিপুর কড়াই ফ্যাক্টরি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটির পুরো অংশই ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। খোয়া ও পিচ উঠে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে পড়ে প্রায়ই সব ধরনের যানবাহন বিকল হয়ে পড়ছে। অথচ শহরের যানজট কমাতে এই বাইপাস সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাট জেলার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জেলা শহরে সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর সড়কের সংযোগস্থল দেবিপুর কড়াই ফ্যাক্টরি থেকে তেঘর রেলগেট হয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দুই দশমিক এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটি নির্মাণ করা হয়। এটি জেলার দ্বিতীয় বাইপাস সড়ক হিসেবে পরিচিত। দৈর্ঘ্যে ছোট হলেও সড়কটির গুরুত্ব অনেক। প্রতিদিন শত শত যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করে।
বিশেষ করে জেলার সর্ববৃহৎ গরুর হাট ‘নতুন হাট’-এ বেচাকেনা হওয়া গরুর একটি বড় অংশ ট্রাকযোগে এই সড়ক দিয়ে আনা-নেওয়া করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাক, মেসি ও বালুবাহী ট্রাক্টরও শহরকে বাইপাস করতে এই সড়কটি ব্যবহার করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পুরো সড়কজুড়েই অসংখ্য খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। বড় বড় গর্তের কারণে পণ্যবোঝাই ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন হেলে-দুলে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় থাকায় রিকশা, অটোরিকশা ও অটোভ্যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জয়পুরহাট পৌরসভা সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি ড্রেন ও লাইটিং ব্যবস্থা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে গত বছরের জুন মাসে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রায় ৭ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের ওই দরপত্রে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাহমুদা কনস্ট্রাকশন কাজ পায়। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও এখনো সড়কের মূল সংস্কার কাজ শুরু হয়নি।
এদিকে কাজ শুরু না হওয়ায় পৌরসভার পক্ষ থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে পরপর তিনবার তাগিদপত্র পাঠানো হয়েছে। তবুও কাজের কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
দেবিপুর মহল্লার ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ বলেন, 'এই সড়কটি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। অনেক অপেক্ষার পর টেন্ডার হলেও কাজ শুরু হচ্ছে না। ভাঙা সড়কে চলাচল করতে গিয়ে আমাদের নাজেহাল হতে হচ্ছে।' একই এলাকার গৃহবধূ মাহফুজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, 'সড়ক সংস্কার না হওয়ায় খুব কষ্ট করে শহরে যাতায়াত করতে হয়। ছেলে-মেয়েরা পায়ে হেঁটে স্কুলে যায়। এই সড়কে কোনো রিকশা বা অটোরিকশা আসে না।'
নওগাঁ থেকে মালামাল নিয়ে আসা ট্রাকচালক আব্দুল মালেক বলেন, 'দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে এই সড়কে ট্রাক চালাতে হয়। গাড়ি খুব দুলতে থাকে, মনে হয় এই বুঝি উল্টে যাবে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।' শহরের ভিটি গ্রামের ক্ষুদ্র মুদি ব্যবসায়ী শাহিন আলম বলেন, 'ব্যবসার কাজে এই সড়ক দিয়ে শহরে যেতে হয়। খরার মৌসুমে কষ্ট হলেও চলাচল করা যায়, কিন্তু বর্ষা এলে পায়ে হেঁটেও যাওয়া যায় না। গর্তগুলো পানিতে ভরে থাকে। অনেক সময় সেচ দিয়ে পানি অপসারণ করতে হয়। শুনেছি টেন্ডার হয়েছে, কিন্তু কাজ শুরু হচ্ছে না।'
এ বিষয়ে মাহমুদা কনস্ট্রাকশনের মালিক ঠিকাদার গাজী আবু জাফর মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'সড়কটিতে একটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে মূল সড়কের কাজ এখনো শুরু হয়নি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর পুরোদমে কাজ শুরু হবে। আশা করছি দরপত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।'
জয়পুরহাট পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী হুমায়ন কবীর জানান, কাজ শুরু না হওয়ায় ঠিকাদারকে তিনবার তাগিদপত্র দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
১০৭ বার পড়া হয়েছে