তরুণদের অগ্রাধিকার দিয়ে বান্দরবানে প্রচারে এনসিপি প্রার্থী সুজাউদ্দিন
শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ৫:১১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
বান্দরবান আসনের ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য-সমর্থিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আবু সাঈদ মোহাম্মদ সুজাউদ্দিন বলেছেন, নির্বাচিত হলে তরুণদের দেশের উন্নয়ন ও নেতৃত্বে এগিয়ে নিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবেন।
কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সৃজনশীল কার্যক্রম ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাই হবে তাঁর মূল লক্ষ্য।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) লামা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী গণসংযোগ ও পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল থেকে গজালিয়া ও সরই ইউনিয়নের ব্রিকফিল্ড বাজার, ডিসি রোড, আন্ধারি, কেজুপাড়া বাজার এবং লুলাইন বাজার এলাকায় শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালান তিনি। এ সময় স্থানীয় মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ভোট চান।
সকালে লামা উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের সরইয়ের আন্ধারি এলাকায় পৌঁছালে শতাধিক তরুণ তাঁকে স্বাগত জানান। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সুজাউদ্দিন বলেন, “তরুণরাই আগামী বাংলাদেশের চালিকা শক্তি। তাঁদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
তিনি জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খেলাধুলার আয়োজন এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করা গেলে পরিবার ও দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। নির্বাচিত হলে বান্দরবানের প্রতিটি এলাকা থেকে তরুণদের সংসদ অধিবেশন দেখার সুযোগ করে দিয়ে নেতৃত্ব বিকাশে সহায়তা করার কথাও বলেন তিনি।
দুপুরে তিনি সরই বাজার থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের দুর্গম লুলাইনমুখ বাজারে যান। ম্রো অধ্যুষিত ওই এলাকায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করে শাপলা কলি প্রতীকে ভোট চান। এ সময় তিনি জাতিগত ও ধর্মীয় বৈষম্য দূর করতে তাঁদের আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত হলে দেশ আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।
বান্দরবান আসনে এনসিপির সুজাউদ্দিনসহ মোট চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যরা হলেন— বিএনপির সাচিংপ্রু জেরী, ইসলামী আন্দোলনের আবুল কালাম আজাদ এবং জাতীয় পার্টির (কাদের) আবু জাফর মো. ওয়ালিউল্লাহ। ইতোমধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী নাইক্ষ্যংছড়িতে প্রচার চালিয়েছেন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী বান্দরবান প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
প্রার্থীদের মধ্যে সাচিংপ্রু জেরী ছাড়া বাকিরা প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। মাঠের প্রচারণায় বর্তমানে বিএনপি ও এনসিপি প্রার্থীর উপস্থিতি বেশি চোখে পড়ছে। তবে এনসিপির প্রচারণায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের তেমন সক্রিয়তা এখনো দেখা যায়নি।
জেলায় মোট ১৮৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ৪২২ জন। এর মধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশ ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভোটার। এবার জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী না থাকায় তাঁদের ভোট কোন প্রার্থীর দিকে যাবে, তা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
১১১ বার পড়া হয়েছে