গণভোটে পক্ষপাতমূলক প্রচারে নিষেধাজ্ঞা: সরকারি কর্মচারীদের সতর্ক করল ইসি
বৃহস্পতিবার , ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:৪১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট সম্পর্কে জনগণকে তথ্য দিতে ও সচেতন করতে পারবেন, তবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-কোনো একটি পক্ষের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো আইনত নিষিদ্ধ।
বৃহস্পতিবার সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে পাঠানো এক চিঠিতে ইসি এ নির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের এ ধরনের পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ড গণভোটের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে, যা গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ২১ ধারা এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ৮৬ ধারার আওতায় দণ্ডনীয় অপরাধ।
চিঠিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এসব বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই জাতীয় সনদের আওতায় প্রস্তাবিত সংবিধান-সংক্রান্ত সংস্কার বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকার ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম চালাচ্ছে। সরকারের উপদেষ্টাদের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানও এসব প্রচারে অংশ নিচ্ছে।
এ অবস্থায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো একটি মতের পক্ষে প্রচার চালানো আইনসিদ্ধ কি না—সে প্রশ্নটি সম্প্রতি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দেয়।
উল্লেখ্য, গণভোট অধ্যাদেশের ২১ ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব কার্য নির্বাচনী অপরাধ বা আচরণবিধি লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়, তা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে গণভোটের ক্ষেত্রেও একইভাবে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এসব অপরাধের বিচার ও ব্যবস্থা গ্রহণে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ কার্যকর থাকবে।
অন্যদিকে আরপিওর ৮৬ ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী যদি নিজের সরকারি পদমর্যাদার অপব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তাহলে তিনি সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
১৩০ বার পড়া হয়েছে