৮ বছরেও শেষ হয়নি মোল্লাবাজার সেতুর নির্মাণকাজ, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ
বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:১৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরী শাখা নদীর ওপর নির্মাণাধীন বহুল প্রত্যাশিত মোল্লাবাজার সেতুর কাজ আট বছরেও শেষ হয়নি।
২০১৮ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের অগ্রগতি ধীরগতির হওয়ায় সিরাজদিখান, টঙ্গীবাড়ি ও লৌহজং উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ এখনো সহজ সড়ক যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) অধীনে রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের সঙ্গে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার সংযোগস্থলে ২০১৮ সালের জুন মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী সেতুটির দৈর্ঘ্য ২৫২ মিটার এবং প্রস্থ ১০ মিটার। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা। ২০২০ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হয়ে তিন দফা মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো সেতুটি চালু করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘসূত্রিতার কারণে প্রতিদিন এই পথে যাতায়াতকারী হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। স্থানীয়ভাবে তৈরি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ নৌযানে করে দিন-রাত নদী পার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সেতুটি চালু হলে মাত্র ৩০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। অথচ বর্তমানে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে রাজধানীতে যেতে সময় লাগছে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা। এতে সময়, অর্থ ও শ্রম—তিন দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগীরা জানান, বছরের পর বছর ধরে শুধু আশ্বাস মিলছে, বাস্তবে কাজের অগ্রগতি খুব ধীর। দ্রুত সেতু নির্মাণ শেষ করে এলাকার মানুষের দুর্ভোগ কমানোর দাবি জানান তারা।
এ রুটের যাত্রী মো. মানিক বলেন, 'অনেক বছর ধরে অপেক্ষা করছি। দ্রুত কাজ শেষ করে আমাদের চলাচলের কষ্ট দূর করা হোক।'
আরেক যাত্রী আসাদ আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প শেষ হয়েছে, অথচ ছোট এই সেতুর কাজ এত বছরেও শেষ হচ্ছে না। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিক।'
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, 'সেতুর নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দুটি স্প্যান ও ভায়াডাক্টের কাজ সম্পন্ন করে আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে যান চলাচলের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে কিছু জমি অধিগ্রহণের কাজ এখনো বাকি রয়েছে।'
স্থানীয়দের আশা, আর দেরি নয়-দ্রুত সেতুটি চালু হলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং রাজধানীর সঙ্গে এই অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।
২২৪ বার পড়া হয়েছে