ধামরাইয়ে ইউপি সদস্যের ছেলের বিচার করায় ৩ জনকে কুপিয়ে জখম
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঢাকার ধামরাইয়ে একজন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে চুরির ঘটনা নিয়ে বিচার করায় তিনজনকে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করার অভিযোগ উঠেছে মুক্তিবুর রহমান মুক্তি নামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে ধামরাই উপজেলার হাজিপুর পশ্চিমপাড়া এলাকায়। ভুক্তভোগী কায়কোবাদের মা আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।
আহতরা হলেন আল আমিন (৩০), সোহরাব (৩৫) এবং কায়কোবাদ (২৮)। অপর দিকে, মামলার আসামীরা হলেন মুক্তিবুর রহমান মুক্তি (৫৫), মোয়াজ্জেম (৩৫), সালাউদ্দিন (৪০), পাচু মিয়া (২২), শফিকুল (২৫), জাহানারা বেগম (২৮), আদম (২০) ও আবু বকর (২৫)।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ধামরাই ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমান মুক্তির ছেলে পাচু মিয়া ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তারের বাড়ি থেকে হাঁস চুরি করে বিক্রি করেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়রা তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জানা গেছে, পাচু মিয়া এলাকায় চুরিসহ নানা ধরনের অপরাধে জড়িত। যেহেতু তার বাবা একজন ইউপি সদস্য, তাই কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায়নি।
হাঁস চুরির ঘটনায় সোমবার রাত সাড়ে আটটায় মুক্তিবুর রহমান ও তার ছেলে পাচু মিয়া স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আকলিমা আক্তারের বাড়িতে হামলা চালান। বাড়ির প্রধান ফটক অস্ত্র দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে আল আমিন, সোহরাব ও কায়কোবাদ বাড়িতে আসার পথে বাড়ির পাশে রাস্তায় সন্ত্রাসী বাহিনী দ্বারা অবরোধ করা হয় এবং তাদের উপর বেধড়ক হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় তারা গুরুতর জখম হন।
আহতদের উদ্ধার করে ইসলামপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কায়কোবাদ ও সোহরাবের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ সময় কায়কোবাদের সঙ্গে থাকা ব্যবসার দেড় লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয় সন্ত্রাসী বাহিনী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, মুক্তিবুর মেম্বারের ছেলে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত এবং তার একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। স্থানীয়রা তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পান না। আহতদের পরিবার জানান, পূর্ব শত্রুতার কারণে মুক্তিবুর মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে তাদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছেন। কায়কোবাদের মাথায় একাধিক কোপ মারা হয়েছে, যার ফলে তার খুলি ভিতরে ঢুকে গেছে এবং তার অবস্থা গুরুতর।
মুক্তিবুর মেম্বারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা খান জানান, উভয় পক্ষের অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১০৭ বার পড়া হয়েছে