মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘গোপন অস্ত্র’ ব্যবহারের দাবি ট্রাম্পের
মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:২০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করার সময় যুক্তরাষ্ট্র একটি গোপন অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ওই অস্ত্রকে ‘ডিসকম্বোবুলেটর’ নামে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, এটি শত্রুপক্ষের যন্ত্রপাতি অকার্যকর করে দিয়েছিল, যার ফলে অভিযান সফল হয়।
এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, এ অস্ত্র সম্পর্কে তাঁর বিস্তারিত কিছু বলার এখতিয়ার নেই। তবে মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প সম্ভবত একাধিক প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সমন্বিত ব্যবহারের কথাই ‘গোপন অস্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বাস্তবে এমন কোনো আলাদা অস্ত্রের অস্তিত্ব নাও থাকতে পারে।
ওই কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা অবকাঠামো অচল করতে সাইবার সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের সেনাদের বিভ্রান্ত করতে বিদ্যমান শব্দব্যবস্থাও সক্রিয় করা হয়েছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে অ্যাকটিভ ডিনায়েল সিস্টেম (এডিএস) নামে একটি তাপ বিকিরণ অস্ত্র ব্যবহার করে আসছে। এটি প্রাণঘাতী নয় বলে দাবি করা হয়। বিদ্যুৎচৌম্বকীয় তরঙ্গের মাধ্যমে তৈরি অদৃশ্য রশ্মি মানুষের ত্বকে তীব্র গরম অনুভূতি সৃষ্টি করে, ফলে লক্ষ্যবস্তু সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়। তবে মাদুরোকে আটক করার সময় এ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার কয়েক দিন পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট শেয়ার করেন, যেখানে ভেনেজুয়েলার এক নিরাপত্তারক্ষীর সাক্ষাৎকার থাকার দাবি করা হয়। ওই সাক্ষাৎকারে নিরাপত্তারক্ষী বলেন, অভিযানের সময় এমন একধরনের তীব্র শব্দতরঙ্গ অনুভূত হয়েছিল, যাতে তাদের মাথা ফেটে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। তাঁর দাবি, অনেকের নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে এবং কেউ কেউ রক্তবমিও করেন। তবে এ বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান শুরু হয়। শুরুতে দেশটির রাডার, যোগাযোগ ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়, যাতে হেলিকপ্টার ও অন্যান্য বিমান নির্বিঘ্নে অগ্রসর হতে পারে।
অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি স্থল ও সামুদ্রিক ঘাঁটি থেকে বোমারু ও নজরদারি বিমানসহ ১৫০টির বেশি উড়োজাহাজ ব্যবহার করা হয়। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, উপকূলীয় শহর হিগুয়েরোতে হামলার জন্য একমুখী ড্রোন ব্যবহারের সম্ভাবনাও রয়েছে। শহরটি ভেনেজুয়েলার বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
ফোর্ট টিউনা সামরিক কমপ্লেক্সে মার্কিন বাহিনীর অবতরণের একটি ভিডিওতে গুলির শব্দ শোনা যায়, যা সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে আক্রমণকারী হেলিকপ্টারের স্বয়ংক্রিয় কামানের শব্দ হতে পারে।
তবে ঠিক কোন স্থানে এবং কীভাবে মাদুরোকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
১২৭ বার পড়া হয়েছে