জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষায় নতুন অধ্যাদেশ জারি
সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:০৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র ও জনতার জন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে রোববার এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করা হয়। আজ সোমবার আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতাকে ‘গণঅভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিস্ট শাসনের পতন ঘটিয়ে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পরিচালিত এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব ধরনের দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের বিধান রাখা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক প্রত্যয়নপ্রাপ্ত কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে মামলা বা আইনি কার্যক্রম চলমান থাকলে পাবলিক প্রসিকিউটরের আবেদনের পর আদালত তাৎক্ষণিকভাবে মামলা প্রত্যাহার করবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অব্যাহতি বা খালাস দেবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত নতুন কোনো মামলা দায়েরও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধ’ এবং ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’-এর মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ উঠলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করার কথা বলা হয়েছে। কমিশন তদন্ত করে যদি মনে করে যে ঘটনাটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা চলবে না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কমিশনের থাকবে।
অন্যদিকে, তদন্তে যদি প্রমাণিত হয় যে হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক প্রতিরোধের বাইরে গিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থে বা অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবে। সে ক্ষেত্রে আদালত ওই প্রতিবেদনকে পুলিশ প্রতিবেদনের সমতুল্য হিসেবে গ্রহণ করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবে।
সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ জারি করেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমানে সংসদ ভেঙে থাকায় এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কারণে এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশটি ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে এবং এটি অন্যান্য সব আইনের ওপর প্রাধান্য পাবে।
১২৭ বার পড়া হয়েছে