নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ অন্তর্বর্তী সরকার, ভারতের ভূমিকা নিয়ে প্রতিক্রিয়া
রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:৫৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ও পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বিস্ময় ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার।
সরকার বলছে, ওই বক্তব্যে বাংলাদেশের সরকার উৎখাত এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ভন্ডুল করার উদ্দেশ্যে সহিংসতায় সরাসরি উসকানি দেওয়া হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে গত ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে তিনি বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেন এবং তাঁর দলীয় অনুসারীদের সহিংস ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে আহ্বান জানান। এ ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ হতবাক হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বারবার অনুরোধ জানালেও ভারত এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। উল্টো ভারতের ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে তাঁকে এমন উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীরভাবে সংক্ষুব্ধ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে প্রচলিত কূটনৈতিক নীতিমালা- যেমন সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী। সরকার মনে করে, এটি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি একটি স্পষ্ট অবমাননার শামিল।
বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, এই ঘটনা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। একই সঙ্গে এতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের পক্ষে পারস্পরিক কল্যাণমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের উসকানিমূলক বক্তব্যই প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত যেকোনো সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় দলটিকেই বহন করতে হবে বলে জানানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতা প্রতিহত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
১০৭ বার পড়া হয়েছে