সাকিবকে দলে বিবেচনার নাটকীয় সিদ্ধান্তে নতুন বিতর্ক
রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:৩৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ পড়ার দিনেই নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ আট ঘণ্টার পরিচালনা পর্ষদ সভা শেষে রাতে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি জানায়, ভবিষ্যতে দেশ ও দেশের বাইরে জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য আবারও বিবেচনায় থাকবেন সাকিব আল হাসান।
বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান আমজাদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘যদি সাকিব আল হাসানের অ্যাভেইলেবিলিটি, ফিটনেস ও অ্যাকসেসিবিলিটি থাকে এবং যে ভেন্যুতে খেলা হবে সেখানে উপস্থিত থাকার সক্ষমতা থাকে, তাহলে অবশ্যই বোর্ড বা নির্বাচক প্যানেল তাঁকে দলে বিবেচনা করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জাতীয় দলের হয়ে ফের খেলতে আগ্রহী সাকিব নিজেও। এ বিষয়ে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘হোম ও অ্যাওয়ে—দুই ধরনের সিরিজেই খেলতে তিনি আগ্রহী কি না এবং অ্যাভেইলেবল কি না, সে বিষয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, তিনি প্রস্তুত। জেনে–বুঝেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
বিসিবির সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানতে গতকাল রাতেই সাকিব আল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে মাগুরা–১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাকিব। একই বছরের জুলাই–আগস্টে ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর তিনি আর দেশে ফিরতে পারেননি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের কানপুরে সর্বশেষ বাংলাদেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন তিনি।
এর পরের মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে টেস্ট খেলেই টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন সাকিব। যদিও তাঁকে রেখে দল ঘোষণা করা হয়েছিল, কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয় ও চলমান প্রতিবাদের কারণে দেশে ফিরতে পারেননি তিনি।
সাকিবের রাজনৈতিক পরিচয় ভবিষ্যতে আবারও বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না—এমন প্রশ্নে বিসিবির বক্তব্য ছিল অস্পষ্ট। আমজাদ হোসেন বলেন, ‘তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় সরকার দেখবে। সরকার যদি মনে করে তাঁর বিচার প্রয়োজন, সেটা বিসিবির বিষয় নয়।’
তবে সরকার অনুমতি না দিলে সাকিবের খেলার পথ যে আগের মতোই অনিশ্চিত থেকে যাবে, সে বিষয়ে পরিষ্কার কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি বোর্ড।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সাকিবের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে, যার মধ্যে হত্যা মামলাও রয়েছে। এসব কারণে তাঁর দেশে ফেরা এত দিন কঠিন ছিল। দেশে ফিরলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না—এমন প্রশ্নেও সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর দেননি বিসিবির মিডিয়া কমিটির প্রধান। তবে তিনি জানান, ‘এই বিষয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বিসিবি সভাপতিকে ইতোমধ্যে বলা হয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে বলেন, ‘সাকিব পতিত ফ্যাসিস্ট না সাবেক সংসদ সদস্য—এগুলো আমাদের বিবেচ্য নয়। আমরা খেলোয়াড় সাকিবকে চেয়েছি।’
এদিকে, বোর্ড সভায় এ বছরের কেন্দ্রীয় চুক্তির জন্য নতুন করে ২৭ জন ক্রিকেটারকে বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় দলের বিবেচ্য তালিকা নিয়ে আলোচনার সময়ই নাকি প্রসঙ্গক্রমে সাকিবের নাম উঠে আসে।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না করা নিয়ে চলমান বিতর্ক আড়াল করতেই কি হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত—এমন প্রশ্ন উঠলেও বিসিবি তা নাকচ করেছে। আমজাদ হোসেনের দাবি, ‘এর আগেও সাকিবকে দলে নিতে চেয়েছে বোর্ড, কিন্তু পরিস্থিতির কারণে সম্ভব হয়নি।’
জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও গত দেড় বছরে বিদেশের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলেছেন সাকিব। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের একটি টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছেন।
অন্যদিকে, বিসিবি পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশতিয়াক সাদেক। বোর্ড সভা শেষে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
১৫১ বার পড়া হয়েছে