শরীয়তপুরে ককটেল হামলা: ১৪ ঘর ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ
শনিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ৯:৩৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের চর গয়ঘর গ্রামে শতাধিক দুষ্কৃতিকারী ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এবং আগুন দিয়ে ১৪টি বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বিএনপিতে যোগদানের কারণে প্রতিপক্ষের লোকরা এই হামলা চালিয়েছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে এই হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হামলাকারীরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান ভাষাণীর বসতঘরে ঢুকে আলমারী ভেঙ্গে স্বর্ণালংকার ও নগদ সাড়ে ৪ লাখ টাকা লুট করেছে। এই সময় চেয়ারম্যান ও তার পরিবার বাড়িতে ছিলেন না। স্থানীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. নিজাম উদ্দিন জানান, দুষ্কৃতিকারীরা তাকে দরজা খোলার জন্য চাপ দেয়; তিনি না খুলে দেওয়ায় তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
একই গ্রামের ইদ্রিস খানের পাকা ঘরও আগুন দিয়ে সম্পূর্ণ পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইদ্রিস খান বলেন, তিনি সম্প্রতি বিদেশ থেকে ফিরে বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন এবং আগে কোনো রাজনীতিতে অংশ নেননি। হামলাটি হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে এক চক্র চালিয়েছে বলে তিনি জানান।
শুকুর বেপারীর ২টি ও সাত্তার খানের ১টি ঘরসহ মোট ১৪টি বসতঘরে ভাংচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হামলায় শতাধিক লোক দেশীয় অস্ত্র ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অংশ নিয়েছিল। ভুক্তভোগী শুকুর বেপারীর স্ত্রী মিনু আক্তার বলেন, হেলাল আকন্দের নেতৃত্বে আলেম বেপারী, করিম বেপারী, সজিব বেপারী, হানিফ বেপারী, শাজাহান খলিফা, রাজ্জাক খলিফাসহ প্রায় শতাধিক ব্যক্তি তাদের বসতঘরে ঢুকে ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।
এ ঘটনায় এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। পুলিশ অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সদর উপজেলার চিকন্দী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. গোলাম রসূল জানান, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, মামলাটি প্রক্রিয়াধীন।
ঘটনার পর শরীয়তপুর-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাঈদ আহম্মেদ আসলাম ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন বলেছেন, তিনি স্থানীয় কোনো রাজনীতি করেন না এবং ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়টি জানেন না।
১৩১ বার পড়া হয়েছে