রাকসু জিএসের মানসিক চিকিৎসার দাবিতে ছাত্রদলের মানববন্ধনের ঘোষণা
সোমবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩:১১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও চিকিৎসার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। একই দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করা হবে।
রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাখা ছাত্রদলের সহদপ্তর সম্পাদক সিয়াম বিন আইয়ুব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়। ঘোষণায় বলা হয়, আজ সোমবার বেলা একটায় ক্যাম্পাসে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে সংঘটিত বিভিন্ন অশোভন আচরণ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাবান্ধব ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় মনোসামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হল ও অনুষদের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী ও সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ মানসিক চিকিৎসাকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও যথাযথ পরিচর্যার অভাবে একাধিক শিক্ষার্থীর মানসিক সমস্যার বিষয়টি অবহেলিত থেকে যাচ্ছে। তাঁর দাবি, উপযুক্ত চিকিৎসা ও তত্ত্বাবধানের অভাবে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ধারাবাহিকভাবে বিতর্কিত ও অশোভন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সালাহউদ্দিন আম্মারের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ছাত্রদল কঠোর কর্মসূচিতে যাবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ায় তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে টানানো একটি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন সালাহউদ্দিন আম্মার। রোববার দুপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলক চত্বরসংলগ্ন প্যারিস রোডে টানানো ওই ব্যানারটি অপসারণ করেন তিনি। এর আগে একই দিন সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যানার সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এর আগেও একাধিক ঘটনায় সালাহউদ্দিন আম্মার বিতর্কের জন্ম দেন। গত সেপ্টেম্বরে পোষ্য কোটা বহালের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সহ-উপাচার্যসহ কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তার সঙ্গে তাঁর হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এছাড়া গত ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগপন্থী ডিনদের পদত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া, প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উদ্দেশে কঠোর বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।
এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসের সামগ্রিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন মহল।
১৩৮ বার পড়া হয়েছে