পত্নীতলায় মেয়েকে নদীতে ফেলে পুলিশের কাছে মায়ের আত্মসমর্পণ
বৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় এক মা তার ১৬ মাস বয়সী কন্যা শিশুকে নদীতে ফেলে দিয়েছেন।
তবে স্থানীয়দের তৎপরতায় শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে সে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে। পত্নীতলা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মুনতাহীন নামের এক নারী থানায় উপস্থিত হয়ে জানান, তিনি মাহমুদপুর ব্রিজ থেকে তার কন্যা শিশুকে আত্রাই নদীতে ফেলে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি পুলিশের কাছে নিজেকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় খমির শেখ নামের এক ব্যক্তি শিশুটিকে নদীর পানি থেকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। পরে পুলিশ শিশুটিকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান জানান, তার স্ত্রী কিছুদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেই মানসিক অসুস্থতার কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, “আমরা তার মানসিক চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।”
পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান, থানায় এসে ওই নারী সন্তানকে নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করায়।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর তিনি নিজে হাসপাতালে গিয়ে শিশুটিকে দেখেছেন। শিশুটিকে উদ্ধারকারী ব্যক্তিকে পুলিশের পক্ষ থেকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুটির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সন্তানের নিরাপত্তা ও মায়ের মানসিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার আশ্বাস নেওয়া হয়েছে।
২৩২ বার পড়া হয়েছে