ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরণ বন্ধ, ট্রাম্পের দাবি
বৃহস্পতিবার , ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩:৩৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে—এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তার প্রেক্ষিতে ইরানের প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বুধবার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী দমননীতি বন্ধ হয়েছে এবং গ্রেপ্তারদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরণের পরিকল্পনাও স্থগিত রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর এক দিন আগে, মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের আন্দোলনকারীদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ইরানে বিক্ষোভ দমনে নির্বিচারে গুলি চালানো হচ্ছে। এ ধরনের হত্যা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক না করার ঘোষণাও দেন তিনি। পোস্টে ইরানের জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দখলের আহ্বান জানিয়ে ‘মেক ইরান গ্রেট এগেইন’ স্লোগানও ব্যবহার করেন ট্রাম্প।
পরে সেদিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে নিহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে নিহতের সংখ্যা যে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি—এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার অবগত বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত দুই সপ্তাহ ধরে ইরানে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে, যা দিন দিন তীব্রতর হচ্ছে। মূলত দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। ইরানি রিয়ালের দর বর্তমানে ডলারের বিপরীতে নজিরবিহীনভাবে দুর্বল, ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে গত ২৮ ডিসেম্বর রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে আন্দোলন বিস্তৃত হয়।
বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধসহ পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে