শুরুতেই বিতর্কে পোস্টাল ব্যালট, ইসিতে বিএনপির অভিযোগ
বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ৩:২৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার আগেই পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে বিদেশে একটি বাসায় একাধিক ব্যক্তিকে বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট পেপার গণনা করতে দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেছে বিএনপি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বাহরাইন ঠিকানায় পাঠানো জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালট কয়েকজন ব্যক্তি একত্রে হাতে নিয়ে গুনছেন। যদিও দেশে পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু ছিল, তবে এবারই প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এই পদ্ধতি চালু করেছে নির্বাচন কমিশন।
নিয়ম অনুযায়ী, নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং কারাবন্দিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। অতীতে আইন থাকলেও সীমিত সুযোগ ও আগ্রহের অভাবে এ ব্যবস্থার ব্যবহার ছিল খুব কম। তবে এবার ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট’ চালু করতে নির্বাচন আইন সংশোধন করা হয়েছে। ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হয় গত ৫ জানুয়ারি।
ইসি সূত্র জানায়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ জন ভোটারের পোস্টাল ভোট নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসী ভোটার সাত লাখ ৬০ হাজারের বেশি। বাকি ভোটাররা দেশের ভেতর থেকে নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় পৌনে ছয় লাখ সরকারি চাকরিজীবী, এক লাখ ৬০ হাজারের মতো নির্বাচনী কর্মকর্তা, ১০ হাজার আনসার-ভিডিপি সদস্য এবং ছয় হাজারের বেশি কারাবন্দি রয়েছেন।
ইসির কর্মকর্তারা জানান, নিবন্ধিত ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ শুরু হলেও তা এখনো শেষ হয়নি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ভোটারদের অ্যাপের মাধ্যমে প্রার্থী ও প্রতীকের তথ্য জানানো হবে। এরপর তারা ভোট প্রদান করতে পারবেন।
ইসি তথ্য অনুযায়ী, ১৮টি সংসদীয় আসনে পোস্টাল ব্যালটে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে ফল নির্ধারিত হয়, সেখানে পোস্টাল ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অন্তত ৩০টি আসনে ১০ হাজার ভোটের কম ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছিল।
এরই মধ্যে পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক বিন্যাস নিয়ে ‘কৌশলগত পক্ষপাতের’ অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। দলটির দাবি, বিদেশে পাঠানো ব্যালট পেপারে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক ইচ্ছাকৃতভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গতকাল নির্বাচন কমিশনে সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় দলটি।
বিএনপির প্রতিনিধি দলের প্রধান নজরুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক এমনভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে যে কাগজ ভাঁজ করলে বিএনপির প্রতীক স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে না। তাদের মতে, এটি পরিকল্পিতভাবেই করা হয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতীক বিন্যাস সম্পূর্ণভাবে প্রতীকের নামের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী (অ্যালফাবেটিক্যাল) করা হয়েছে এবং এতে কোনো ধরনের নিয়মবহির্ভূত কাজ হয়নি।
বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালট বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে ইসি জানায়, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তদন্ত চলছে। ইসি সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, সেখানে কিছু প্রবাসী ভোটার ডাক বিভাগের কাছ থেকে একসঙ্গে ব্যালট সংগ্রহ করেছিলেন। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দূতাবাস হস্তক্ষেপ করে ব্যালটগুলো উদ্ধার করেছে এবং এখন সেগুলো সংশ্লিষ্ট ভোটারদের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
ইসি সূত্র আরও জানায়, আগামী নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখের বেশি। এর মধ্যে পোস্টাল ভোটে নিবন্ধনের হার প্রায় এক শতাংশ। সংখ্যায় কম হলেও কিছু আসনে এই ভোট ফলাফল নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
১৪৬ বার পড়া হয়েছে