সর্বশেষ

জাতীয়গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বললেই সংস্কারের পথে বাংলাদেশ এগোবে: রিজওয়ানা
সারাদেশরাঙামাটির লংগদুতে ভুয়া ডিজিএফআই পরিচয়ে চাঁদাবাজি, চার যুবক আটক
আন্তর্জাতিকইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, পাল্টা হুমকি তেহরানের
খেলারংপুরকে আবারও হারাল রাজশাহী, পয়েন্ট টেবিলে দুইয়ে ওয়ারিয়র্স
জাতীয়

সীমানা পুনর্নির্ধারণে আদালতের আদেশে জটিলতা, কয়েকটি আসনে ভোট কার্যক্রম স্থগিত

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:২২ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে একাধিক রিটের কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।

তফসিল ঘোষণার পরও বিভিন্ন আসনের সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত গেজেট স্থগিত হওয়ায় কয়েকটি আসনে ভোট কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর মধ্যে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচন স্থগিত করায় প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের দায়িত্ব একমাত্র নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। এ বিষয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই বলেও সংবিধান ও আইনে উল্লেখ রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে ৪৬টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের মধ্যে ১৪টি আসন নিয়ে হাইকোর্ট ইতোমধ্যে বিভিন্ন আদেশ দিয়েছেন। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণের গেজেট স্থগিত হওয়ায় ওই দুই আসনে ভোটের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধান ও আইনে সীমানা নির্ধারণের বিষয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলার সুযোগ না থাকলেও সর্বোচ্চ আদালত তার অন্তর্নিহিত ক্ষমতাবলে বিষয়টি শুনতে পারেন। তবে যেহেতু এটি ইসির সাংবিধানিক দায়িত্ব, তাই এ এখতিয়ার তাদের কাছেই থাকা উচিত। অন্যথায় নির্বাচন প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

গত জুলাইয়ে ইসি ৩৯টি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে। আপত্তি নিষ্পত্তির পর ৪ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করা হয়, যাতে মোট ৪৬টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আসে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হয় গাজীপুর ও বাগেরহাট জেলায়। গাজীপুরে জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আসন সংখ্যা পাঁচ থেকে ছয়টি করা হয় এবং বাগেরহাটে চার থেকে কমিয়ে তিনটি করা হয়। তবে এ বিষয়ে করা রিটের পর হাইকোর্টের আদেশে ইসি ১১ ডিসেম্বর সংশোধিত গেজেট জারি করে গাজীপুরে পাঁচটি ও বাগেরহাটে চারটি আসন পুনর্বহাল রাখে।

তফসিল ঘোষণার দিনই হাইকোর্ট পৃথক মামলায় ফরিদপুর-৪ আসনের সীমানা সংক্রান্ত গেজেট স্থগিত করেন। একই সঙ্গে পাবনা-১, পাবনা-২, কুমিল্লা-১ ও কুমিল্লা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণের গেজেটও স্থগিত করা হয়। পরে কুমিল্লা-১ ও কুমিল্লা-২ আসনের বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ আপিল বিভাগের চেম্বার জজ স্থগিত করেন। এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে আপিল বিভাগ।

এ ছাড়া রংপুর, বরগুনা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চারটি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের গেজেট স্থগিত চেয়ে করা রিট এখনো শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

সংবিধানের ১১৯(গ) অনুচ্ছেদে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের দায়িত্ব ইসির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। ১২৫(ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনী এলাকার সীমা নির্ধারণ বা আসন বণ্টন সম্পর্কিত আইনের বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন তোলা যাবে না। একইভাবে সীমানা নির্ধারণ আইন-২০২১-এর ৭ ধারায়ও আদালতে এ বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের সুযোগ রহিত করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞ ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, অতীতেও সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে রিট হলেও আদালত ইসির সিদ্ধান্তই বহাল রেখেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে বড় ধরনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ হলেও আদালত ইসির এখতিয়ারকে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সাবেক সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, আদালত যে কোনো বিষয়ে শুনানি করতে পারেন। তবে সংবিধানের ১২৫(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তফসিল ঘোষণার পর ইসিকে নোটিশ ও শুনানির সুযোগ না দিয়ে কোনো আদেশ দেওয়া উচিত নয়, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়া বিঘ্নিত না হয়।

পাবনায় নির্বাচন স্থগিতে প্রার্থীদের ক্ষোভ
পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পাবনা-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান মোমেন নির্বাচন কমিশনকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আদালত নির্বাচন বন্ধের আদেশ দেননি, অথচ ইসি ভোট কার্যক্রম স্থগিত করেছে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী অধ্যাপক ড. আবু সাইয়িদ এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, এমন পরিস্থিতি গত ৫৪ বছরেও দেখা যায়নি। বিএনপির প্রার্থী শামসুর রহমান বলেন, আসন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। পাবনা-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব বলেন, নির্বাচন স্থগিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতের প্রার্থী কে এম হেসাব উদ্দিনও বিষয়টি ষড়যন্ত্র কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এভাবে একের পর এক আসনের সীমানা সংক্রান্ত গেজেট স্থগিত হলে শুধু সংশ্লিষ্ট আসন নয়, আশপাশের আসনগুলোর নির্বাচনও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। এতে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।

১০৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন