এলপিজি সংকট মোকাবিলায় আমদানি ও উৎপাদনে কর পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ
বৃহস্পতিবার , ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ৯:২৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ সংকট ও মূল্য অস্থিরতা সামাল দিতে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও কর কাঠামো পুনর্নির্ধারণের সুপারিশ করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।
একই সঙ্গে এলপিজি আমদানিতে ব্যাংক ঋণ ও এলসি (ঋণপত্র) খোলার প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এলপিজিকে ‘গ্রিন ফুয়েল’ হিসেবে বিবেচনা করে কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে। একই দিনে এলপিজি আমদানির ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণ ও এলসি সংক্রান্ত আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছেও পৃথক চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এনবিআরকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, দেশে ব্যবহৃত মোট এলপিজির প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আমদানি করা হয়। শিল্প ও গৃহস্থালি-উভয় খাতেই এর ব্যবহার ব্যাপক। শীত মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং দেশে পাইপলাইনের প্রাকৃতিক গ্যাসের ঘাটতির কারণে এলপিজির চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। চলতি শীত মৌসুমেও এর ব্যতিক্রম হয়নি, ফলে বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ ভোক্তার ওপর।
সাম্প্রতিক সময়ে এই সংকট নিয়ে গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের প্রেক্ষাপটে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সঙ্গে বৈঠক করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বৈঠকে এলপিজির আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে বিদ্যমান ভ্যাট ও কর কাঠামো পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব ওঠে এবং বাজার স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
চিঠিতে ১৮ ডিসেম্বর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের কথাও উল্লেখ করা হয়। সেখানে আমদানি পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি তুলে নিয়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ এবং স্থানীয় উৎপাদনে বিদ্যমান ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ী পর্যায়ের ভ্যাট ও আগাম কর অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে এসব সিদ্ধান্ত কার্যকরের আগে ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম কতটা কমবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।
উপদেষ্টা পরিষদের এই প্রস্তাব লোয়াব নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় উপস্থাপন করা হলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এতে একমত পোষণ করে। যদিও বৈঠকে লোয়াব আমদানি পর্যায়ে ১০ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য শতাংশ ভ্যাট আরোপের দাবি জানায়।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, এলপিজিকে সবুজ জ্বালানি হিসেবে বিবেচনা করে গ্রিন ফান্ড থেকে সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা দিলে খাতটির বিদ্যমান সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে। এতে সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করা সহজ হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
সবশেষে বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানি সংশ্লিষ্ট ঋণ ও এলসি আবেদন দ্রুত এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
২৩১ বার পড়া হয়েছে