মাঝআকাশে যাত্রীর মৃত্যু: তদন্তে বিমানের পাইলট
বৃহস্পতিবার , ৮ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:৫৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেট থেকে লন্ডনগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে মাঝআকাশে যাত্রীর আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পাইলটের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩১ ডিসেম্বর বিমানের বিজি-২০১ ফ্লাইটে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফ্লাইটটির পাইলট ইন কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন আলিয়া মান্নান। উড্ডয়নের কিছু সময় পর বিমানটি পাকিস্তানের লাহোরের আকাশসীমার কাছাকাছি পৌঁছালে এক যাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এ সময় নিকটবর্তী কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের পরিবর্তে পাইলট ফ্লাইটটি ঢাকায় ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেন। ঢাকায় ফিরে আসতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। পরে রাজধানীতে অবতরণের পর চিকিৎসকরা ওই যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি খতিয়ে দেখবে, অসুস্থ যাত্রীকে নিয়ে কেন কাছের কোনো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা হয়নি। তিনি বলেন, বিমানে ‘মেডিকেল ইমার্জেন্সি’ মোকাবিলার জন্য নির্ধারিত নীতিমালা থাকলেও বাস্তবে তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা দেখা দেয়।
উল্লেখ্য, এর আগেও ২০২৩ সালে বিমানের লন্ডনগামী একটি ফ্লাইটে একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পাইলট সরাসরি যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিলেন।
বিমানের ভেতরের একটি সূত্র জানায়, অনেক সময় অসুস্থ কিংবা অতিবৃদ্ধ যাত্রীরা নিজেদের শারীরিক অবস্থার কথা গোপন করেন অথবা গ্রাউন্ড স্টাফদের সহায়তায় ফ্লাইটে ওঠেন। দীর্ঘপথের যাত্রায় বায়ুচাপের পরিবর্তন, শারীরিক ধকল, ঘুমের অভাব ও জেট ল্যাগ-বিশেষ করে রাতের ফ্লাইটে-বয়স্ক ও অসুস্থ যাত্রীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বিমান কর্তৃপক্ষ বারবার যাত্রীদের ফ্লাইটের আগে শারীরিক অসুস্থতার তথ্য সঠিকভাবে জানানোর অনুরোধ জানালেও এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা পুরোপুরি এড়ানো যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
১৩৬ বার পড়া হয়েছে