নির্বাচন নিয়ে সংশয় ছড়ানোরা নজরদারিতে আছে: প্রেস সচিব
বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:৪২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যারা এখনো সন্দেহ ও সংশয় ছড়ানোর চেষ্টা করছে, সরকার তাদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অতীত ভূমিকা ও বর্তমান তৎপরতা সম্পর্কে সরকারের কাছে সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে বলে তিনি জানান।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রেস সচিব জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ, ভোটার নিবন্ধন, ‘ভোটের গাড়ি’সহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচি ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নির্বাচনের আর মাত্র ৩৭ দিন বাকি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ইতিহাসের কয়েকটি বড় ও সংবেদনশীল কর্মসূচি—শরীফ ওসমান হাদির জানাজা, তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষে রাজনৈতিক সমাবেশ এবং বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা—নিরাপত্তার সঙ্গে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা বাহিনীগুলোর সক্ষমতার প্রমাণ।
গণভোটে অংশগ্রহণ বাড়াতে ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে শফিকুল আলম বলেন, সারাদেশের প্রায় চার লাখ মসজিদসহ মন্দির ও গির্জার মাধ্যমে জনগণকে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের কারণে এ বার্তা গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত দ্রুত পৌঁছাবে। তিনি বলেন, এবারের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমে আগামী একশ বছরের বাংলাদেশের দিকনির্দেশনা নির্ধারিত হবে।
নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। যাদের প্রয়োজন, তাদের গানম্যান দেওয়া হয়েছে। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ এ বিষয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করছে এবং স্থানীয় পর্যায় থেকেও নিরাপত্তা চাহিদা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে যশোরের মনিরামপুরে বরফকল ব্যবসায়ী রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার জ্যেষ্ঠ সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, ঘটনাটি চরমপন্থী রাজনীতি ও পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে।
তিনি জানান, নিহত রানা প্রতাপ দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি একটি হত্যা মামলার আসামিও ছিলেন। স্থানীয় একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে কাজ করলেও এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাংবাদিকতা বা ধর্মীয় পরিচয়ের কোনো সম্পর্ক নেই।
ফয়েজ আহম্মদ বলেন, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে কিছু মহল অপপ্রচারের চেষ্টা করেছে, তবে পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করেছে।
১৫৩ বার পড়া হয়েছে