জয়পুরহাটে উদ্যোক্তা আব্দুর রাজ্জাকের দানাদার জৈব সারের সফল উদ্যোগ
মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ১০:০৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
জয়পুরহাটের বজরপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক তার উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকায় কৃষকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছেন।
স্থানীয় আবর্জনা, মুরগির বিষ্ঠা, গোবর ও তামাকের গুড়া ব্যবহার করে তিনি তৈরি করছেন দানাদার জৈব সার, যার নাম দিয়েছেন 'রাজ্জাক ট্রাইকোডার্মা'।
রাজ্জাক ট্রাইকোডার্মা এখন জয়পুরহাটের বিভিন্ন বাজারে ৪০ কেজির বস্তায় বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকায়। প্রতি মাসে মাত্র তিন জন কর্মচারী নিয়োগ করে পরিচালিত এই ছোট কারখানা থেকে তিনি আয় করছেন ৩০–৪০ হাজার টাকা।
পল্লীকর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং জাকস ফাউন্ডেশনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় রাজ্জাক বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গায় এই দানাদার জৈব সার উৎপাদন শুরু করেন। প্রতি শতক জমিতে মাত্র তিন কেজি ব্যবহারে মাটি উর্বর ও ফসল বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।
উদ্যোক্তা রাজ্জাক বলেন, 'জৈব সার নিয়ে অনেক আগে ধারণা ছিল না, তবে জাকস ফাউন্ডেশনের পরামর্শ ও সহযোগিতায় আমি উদ্যোক্তা হিসেবে পথচলা শুরু করেছি। এতে খরচ হলেও মানসম্পন্ন সারের কারণে লাভ হচ্ছে।'
জাকস ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ওবায়দুর রহমান বলেন, 'কৃষকরা রাসায়নিক সার বেশি ব্যবহার করে জমির ক্ষতি করছেন। জৈব সার মাটিকে পুনরুজ্জীবিত করে। গ্রামীণ পর্যায়ে উদ্যোক্তা তৈরি করলে কৃষকরা জৈব সার ব্যবহার ও উপকার সম্পর্কে সচেতন হবে।'
জয়পুরহাট সদর উপজেলার উপজেলা কৃষি অফিসার রাফসিয়া জাহানও বলেন, 'ট্রাইকো কম্পোষ্ট ও ভারমি কম্পোষ্ট আধুনিক কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাইকোডার্মা একটি উপকারী ছত্রাক, যা মাটি শোধন ও উর্বরতা বাড়ায়। উদ্যোক্তা তৈরি হলে জৈব সারের ব্যবহার আরও বাড়বে।'
রাজ্জাকের এই উদ্যোগ এলাকার কৃষি ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যেখানে সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত জৈব সার ব্যবহার করে কৃষকরা উপকৃত হচ্ছেন।
৫৫৮ বার পড়া হয়েছে