এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি কারসাজির ফল, ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে: জ্বালানি উপদেষ্টা
মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি)-এর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এলপিজির দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় কিছু ব্যবসায়ী আগেভাগেই সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এই সুযোগে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হয়েছে। বিষয়টি নজরে আসার পর প্রত্যেক জেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভাতেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বাজারে দাম বাড়ার পেছনে কোনো প্রকৃত সরবরাহ সংকট নেই; এটি সম্পূর্ণভাবে একটি কারসাজির ফল।
কারা এই কারসাজির সঙ্গে জড়িত- এমন প্রশ্নের জবাবে ফাওজুল কবির খান বলেন, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিলেই এই কাজ করেছেন। ইতোমধ্যে যেসব দোকান বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে, সেগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের শাস্তি দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর একযোগে কাজ করছে। বিভিন্ন এলাকায় জরিমানা ও অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থার খবর ইতোমধ্যে গণমাধ্যমে এসেছে।
এলপিজি খাতের কাঠামো সম্পর্কে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, দেশে ব্যবহৃত সিলিন্ডার গ্যাসের প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের মাধ্যমে আসে। রাষ্ট্রায়ত্ত পর্যায়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে অল্প পরিমাণ প্রোপেন-বিউটেন উৎপাদন করে এলপিজি সরবরাহ করা হয়।
তিনি জানান, জ্বালানি সচিব ও বিইআরসির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকের পর এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আলোচনায় উঠে এসেছে, চলতি মাসে এলপিজির আমদানি আগের মাসের তুলনায় বেশি হয়েছে, ফলে সরবরাহ ঘাটতির কোনো কারণ নেই।
এলপিজির দাম নিয়ন্ত্রণে সরকার চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় টিম পাঠিয়েছে এবং ঢাকায়ও নজরদারি জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি। তার আশা, সাময়িক যে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।
বিইআরসি থেকে আগেভাগে মূল্যবৃদ্ধির তথ্য ফাঁস হওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কমিশনের কেউ এর সঙ্গে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকটের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, দেশে গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজির পরিমাণ কমেনি। তবে শীতকালে পাইপলাইনের কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে সরবরাহে সাময়িক সমস্যা দেখা দেয়। এটি কোনো ঘাটতির কারণে নয়।
তিনি আরও জানান, কিছু জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে ভবিষ্যতে জাহাজীকরণে সমস্যা হতে পারে, তবে চলতি মাসে এর কোনো প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। সরকার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।
৪৯২ বার পড়া হয়েছে