মাদুরোকে আটক: ভেনেজুয়েলায় অস্থিরতা, মার্কিন অভিযানে উদ্বেগ জাতিসংঘ
মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ ৮:৫৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে বিচারের মুখোমুখি করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের বিষয়টি নিয়েও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে গুতেরেস এ বক্তব্য দেন। ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় মাদুরোকে ম্যানহ্যাটনের একটি ফেডারেল আদালতে হাজির করার কয়েক ঘণ্টা আগে।
জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক প্রধান রোজেমেরি ডিকার্লোর মাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা আরও তীব্র হতে পারে এবং এর প্রভাব পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক আচরণে এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ নজির স্থাপন করতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ভেনেজুয়েলাকে দখলের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস—এই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র একটি সীমিত ও নির্দিষ্ট আইন প্রয়োগকারী অভিযান চালিয়েছে, যেখানে মার্কিন বাহিনী সহায়তা করেছে।
ওয়াল্টজ আরও বলেন, ভেনেজুয়েলা বা সে দেশের জনগণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র কোনো যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। তার ভাষায়, পশ্চিম গোলার্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষদের কর্মকাণ্ডের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না, বিশেষ করে যখন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি মজুদ একটি অবৈধ নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে থাকে।
অন্যদিকে, জাতিসংঘে নিযুক্ত ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাডা এই অভিযানকে ‘অবৈধ সশস্ত্র হামলা’ হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এ অভিযানের কোনো আইনি বৈধতা নেই এবং ভেনেজুয়েলার সাংবিধানিক শৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিকভাবেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
বৈঠকে গুতেরেস ভেনেজুয়েলার সব পক্ষকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
কলম্বিয়ার অনুরোধে ডাকা এই বৈঠকে রাশিয়া, চীন ও কলম্বিয়া মার্কিন সামরিক অভিযানের নিন্দা জানিয়ে একে অবৈধ বলে উল্লেখ করে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা না করে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদ মেনে চলার আহ্বান জানায়।
যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য জাতিসংঘ সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছে, যেখানে ব্যক্তিগত বা সম্মিলিত আত্মরক্ষার অধিকার স্বীকৃত।
৩০৯ বার পড়া হয়েছে