ভোররাতে কারাকাসে বিস্ফোরণ, নিকোলাস মাদুরোকে আটকের দাবি ট্রাম্পের
রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ৭:৪০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে শনিবার ভোরে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণের পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে- এমন দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তাঁর দাবি, অভিযানে মাদুরোর পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীকেও আটক করা হয়েছে। শনিবার সকালে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি দেওয়া হবে বলেও জানান ট্রাম্প। তবে ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে মাদুরোকে আটক করার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরের দিকে কারাকাসে অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং আকাশ দিয়ে নিচু হয়ে যুদ্ধবিমান উড়তে দেখা গেছে। কয়েক মাস ধরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়েলার সরকার এ হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে। তাদের দাবি, বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
হামলার আগেই ভেনেজুয়েলার আকাশসীমায় মার্কিন বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ)। সংস্থাটি জানায়, চলমান সামরিক তৎপরতার কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ওই সময় হামলার লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে সিবিএস নিউজ মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে, নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ডেলটা ফোর্স অংশ নেয়। ডেলটা ফোর্সকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কারাকাসের বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরণ ও আগুনের বিভিন্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। ভেনেজুয়েলা সরকার জানিয়েছে, হামলাটি ৩০ মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী হয়েছিল।
বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা পরও রাজধানীর বড় একটি অংশ বিদ্যুৎহীন ছিল। একটি সামরিক ঘাঁটির হ্যাঙ্গার থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে বলেও জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
কারাকাসের এক বাসিন্দা ২১ বছর বয়সী অফিসকর্মী কারমেন হিদালগো বলেন, “পুরো মাটি কেঁপে উঠেছিল। বিস্ফোরণ আর বিমানের শব্দে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।”
এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, কারাকাসের পাশাপাশি মিরান্দা, আরাগুয়া ও লা গুয়াইরা রাজ্যেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয় এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীকে সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।
১৩১ বার পড়া হয়েছে