সর্বশেষ

জাতীয়ভোররাতে ঢাকা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প
আজ থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ-বাতিলের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল শুরু
কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন, শীত আরো বাড়বে : আবহাওয়া অফিস
সারাদেশচাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের হাতে যুবকের মৃত্যু
ঘন কুয়াশায় সিরাজগঞ্জে তীব্র শীত, বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ
সেন্টমার্টিন উপকূলে নৌবাহিনীর অভিযানে মালয়েশিয়াগামী ২৭৩ জন আটক
আন্তর্জাতিকমাদুরোর দেহরক্ষী হত্যার অভিযোগে ভেনেজুয়েলার তীব্র নিন্দা
খেলামোস্তাফিজকে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেয়ার নির্দেশ বিসিসিআইয়ের
যুব বিশ্বকাপের জন্য আজিজুলের নেতৃত্বে বাংলাদেশের ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা
মতামত

কারাকাসে সেনা টহল, নিউইয়র্কে মাদুরো: ভেনিজুয়েলার সংকটে নতুন অধ্যায়

মনজুর এহসান চৌধুরী
মনজুর এহসান চৌধুরী

রবিবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ২:৪৩ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার সর্বশেষ আপডেটে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস বর্তমানে নিউইয়র্কে মার্কিন হেফাজতে রয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে মাদক–সম্পর্কিত অভিযোগে বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এই অভূতপূর্ব অভিযানের পর দেশটির ভেতরে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভেনিজুয়েলার সার্বভৌমত্ব, অন্তর্বর্তী শাসন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা নিয়ে নতুন বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।

মাদুরো এখন যুক্তরাষ্ট্রে

সর্বশেষ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভেনিজুয়েলায় রাতভর সামরিক অভিযানের পর নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আটক করে মার্কিন বাহিনী বিশেষ বিমানে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে এবং দুজনকে নিউইয়র্কে ফেডারেল হেফাজতে রাখা হয়েছে। মার্কিন সূত্রগুলো জানাচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকে থাকা ‘নার্কো–টেররিজম’ ও কোকেন পাচার–কেন্দ্রিক মামলাগুলোর ভিত্তিতে গ্র্যান্ড জুরি ও আদালতীয় প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি চলছে, যদিও নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

ট্রাম্পের অন্তর্বর্তী শাসন–ইঙ্গিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক বিবৃতিতে বলেছেন, “লার্জ–স্কেল” সামরিক অভিযানে ভেনিজুয়েলার প্রতিরক্ষা কাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার পর বিশেষ বাহিনী “ফর্ট্রেস–টাইপ” নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে মাদুরোকে আটক করেছে এবং এখন তিনি মার্কিন বিচারব্যবস্থার অধীনে থাকবেন। একই সঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ভেনিজুয়েলায় নতুন সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র “সাময়িকভাবে দেশটির পরিস্থিতি ও বিশেষ করে তেল খাত” তত্ত্বাবধান করবে, যা কার্যত এক ধরনের মার্কিন–তত্ত্বাবধায়ক অন্তর্বর্তী শাসনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মাচাদো ও বিরোধী শিবির

ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো মাদুরো আটক হওয়ার পর আলাদা বিবৃতিতে বলেছেন, তিনি “গণতান্ত্রিক ট্রানজিশন” নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত এবং এর জন্য ভেনিজুয়েলার জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থন চান। তবে পরবর্তী খবর অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে এখনই তাঁকে সামনে রেখে আনুষ্ঠানিক রূপরেখা ঘোষণা করা হবে কি না—তা নিয়ে দ্বিধা রয়েছে; কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আপাতত ওয়াশিংটন সরাসরি কোনো একজন বেসামরিক নেতাকে ঘোষণা না করে সামগ্রিক ট্রানজিশন কাঠামো নিয়ে কাজ করতে চাইছে।

কারাকাসের ভেতরে পরিস্থিতি

ভেনিজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী দুজনেই নতুন করে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁদের দৃষ্টিতে নিকোলাস মাদুরো এখনো দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট এবং তাঁকে “অবিলম্বে মুক্তি দিয়ে ভেনিজুয়েলায় ফিরিয়ে আনা” না হলে এটিকে তারা আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখবে। রাজধানী কারাকাস ও কয়েকটি বড় শহরে সেনা টহল জোরদার করা হয়েছে; অনেকে রাস্তায় নেমে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দিলেও, বড় অংশের নাগরিক খাদ্য–জ্বালানি–বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে কি না, সেই অনিশ্চয়তায় অপেক্ষা করছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা এখনো প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে; কেউ কেউ ভেনিজুয়েলার জনগণের “স্বাধীনতার সুযোগ” বলে উল্লেখ করছে, আবার অনেকেই একে সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সামরিক হস্তক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করে উদ্বেগ প্রকাশ করছে। জাতিসংঘ ও আঞ্চলিক সংগঠনগুলো ভেনিজুয়েলায় অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কায় সংযম, বেসামরিক সুরক্ষা এবং একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

মাদুরোকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একদিকে ব্রাজিল, মেক্সিকো, চিলি, কিউবা, রাশিয়া, চীন ও ইরানের মতো দেশগুলো কড়া ভাষায় যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে কিছু শক্তি এটিকে স্বাগত বা অন্তত “সুযোগের জানালা” হিসেবে দেখছে—যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে গভীর বিভাজনের চিত্র তুলে ধরছে। ভেনিজুয়েলার সাধারণ মানুষও সেই বিভাজনের প্রতিচ্ছবি—কেউ উৎফুল্ল, কেউ ক্ষুব্ধ, বেশির ভাগই অনিশ্চিত—যেখানে দীর্ঘদিনের সঙ্কট থেকে মুক্তির আশা আর বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের আশঙ্কা একসঙ্গে মিশে গিয়ে মাদুরো–পরবর্তী ভবিষ্যৎকে আরও জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।


লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট।

১৪৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
মতামত নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন