সর্বশেষ

জাতীয়কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ওবায়দুল কাদের
একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ সিইসির, পরিবেশ সন্তোষজনক বলে মন্তব্য
মনোনয়নপত্র সংক্রান্ত আপিল দাখিলের নিয়ম ও সময়সূচি প্রকাশ
ভোররাতে ঢাকা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্প
আজ থেকে মনোনয়নপত্র গ্রহণ-বাতিলের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল শুরু
কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন, শীত আরো বাড়বে : আবহাওয়া অফিস
সারাদেশনাটোরে পুকুরপাড় থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ
রশিদ ছাড়া এলপিজি বিক্রি : মানিকগঞ্জে দুই প্রতিষ্ঠানকে নগদ জরিমানা
বিগত নির্বাচনে ছিল অনিয়ম-কারচুপি: বান্দরবানে নির্বাচন কমিশনারের সতর্কবার্তা
কুমিল্লায় ভোটারদের সচেতনতা বাড়াতে ‘ভোটের গাড়ি’ কর্মসূচি শুরু
উল্লাপাড়ায় বৃদ্ধার সৎকার ঘিরে উত্তেজনা, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দাহ সম্পন্ন
আন্তর্জাতিকশপথ নিচ্ছেন ভেনেজুয়েলার নতুন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ
মাদুরোর দেহরক্ষী হত্যার অভিযোগে ভেনেজুয়েলার তীব্র নিন্দা
খেলামোস্তাফিজ ইস্যুতে বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার স্থগিতের নির্দেশ
ভারতের ম্যাচ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে বিসিবি, ঘনীভূত সংকট
জাতীয়

সনদ-নিয়োগ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজীর বিরুদ্ধে ডিআইএ’র তদন্ত শুরু

শামীম বিন সাত্তার
শামীম বিন সাত্তার

শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ১:৪১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সনদ জালিয়াতি, অবৈধ নিয়োগ ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)। চার সদস্যের তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে ময়মনসিংহে পৌঁছেছে। আগামী রবিবার ও সোমবার দুই দিনব্যাপী তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ডিআইএ সূত্র জানায়, অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজীর বিরুদ্ধে গত ২৯ এপ্রিল, ১৩ আগস্ট ও ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে তিনটি পৃথক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন কাতলাসেন কাদেরিয়া কামিল মাদ্রাসার আজীবন দাতা সদস্য ও প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আতাউর রহমান। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতেই তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত অডিটও করা হবে।

অন্যদিকে, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ আজিজী দাবি করেছেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলার কারণেই তাকে টার্গেট করে এই তদন্তের চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বলেন, ২০১৯ সালে তার প্রতিষ্ঠানে সর্বশেষ অডিট হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আরও কয়েক বছর পর অডিট হওয়ার কথা থাকলেও শুধুমাত্র তার প্রতিষ্ঠানকে আলাদাভাবে টার্গেট করা হয়েছে।

তদন্তের প্রতিবাদে গত সপ্তাহে জেলায় জেলায় বিক্ষোভ ও শিক্ষা ভবনে ডিআইএ কার্যালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও কোনো কর্মসূচিই বাস্তবায়িত হয়নি।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী একই সময়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ফাজিল ও কামিল ডিগ্রি অর্জন করেন, যা বিধিবহির্ভূত। একই সময়ে একাধিক সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শিক্ষার্থী থাকা আইনসিদ্ধ নয়। অভিযোগকারী দাবি করেন, এসব অবৈধ সনদের মাধ্যমে তিনি প্রায় ১৯ বছর ধরে চাকরি করে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন।

এছাড়া ২০০৬ সালে অবৈধ সনদ ব্যবহার করে নরসিংদীর একটি ফাজিল মাদ্রাসায় আরবি প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ এবং এমপিওভুক্ত হওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। ফলে কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ১৫ বছরের বৈধ শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা তার নেই বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মাদ্রাসাটি বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার কেন্দ্র হওয়ায় অধ্যক্ষ কেন্দ্র সচিব হিসেবে ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দাখিল ও কামিল পরীক্ষার সময় পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করেন। কোনো রশিদ বা কেন্দ্র কমিটির অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। লিখিত পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়ার পরও মৌখিক পরীক্ষায় অস্বাভাবিকভাবে বেশি নম্বর দিয়ে তাকে প্রথম করা হয় বলে অভিযোগকারী দাবি করেন। একই সঙ্গে মেধাবী প্রার্থীর উত্তরপত্র কোডিং না করা এবং নম্বর কম দেওয়ার অভিযোগও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এ বিষয়ে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর এম. এম. সহিদুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত হচ্ছে। যেহেতু প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ অডিট ২০১৯ সালে হয়েছে, সে কারণে তদন্তের পাশাপাশি নিয়মিত অডিটও করা হচ্ছে। এখানে কোনো ব্যতিক্রম বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য নেই। আমরা নীতিমালা অনুসরণ করেই কাজ করছি।”

অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, এর আগেও মাদ্রাসার এডহক কমিটি গঠন নিয়ে অধ্যক্ষ আজিজীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ সংক্রান্ত মামলায় চলতি বছরের এপ্রিলে আদালত কমিটির কার্যক্রমে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

২১৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন