পাকিস্তানকে ‘খারাপ প্রতিবেশী’ বললেন জয়শঙ্কর, সিপিইসি নিয়ে সতর্কতা
শনিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ৪:২৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর পাকিস্তানকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, সব প্রতিবেশী এক রকম হয় না, আর কিছু প্রতিবেশী ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিরতা তৈরি করে।
শুক্রবার আইআইটি মাদ্রাজে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, কোনো দেশ যদি বারবার সন্ত্রাসবাদের পথ বেছে নেয়, তাহলে নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারতের অধিকার।
সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি ঘিরে পাকিস্তানের হুঁশিয়ারির জবাবে জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে জানান, ভারত কী করবে বা করবে না- তা অন্য কোনো দেশ নির্ধারণ করতে পারে না। তিনি বলেন, প্রতিবেশী যদি সহযোগী হয়, ভারত সবসময় পাশে দাঁড়ায়, কিন্তু ক্ষতিকর আচরণ হলে তার জবাবও দেওয়া হবে।
জয়শঙ্করের এই বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে লস্কর-ই-তৈয়বা হামলার পর ভারতের নেওয়া সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ আবার আলোচনায় এসেছে। ওই হামলার পর ভারত পাকিস্তান ও পাক-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর লক্ষ্য করে পাল্টা পদক্ষেপ নেয়।
এদিকে, চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বালুচ নেতা ও মানবাধিকারকর্মী মির ইয়ার বালুচ। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে লেখা এক খোলা চিঠিতে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতে চীন বেলুচিস্তানে সেনা মোতায়েন করতে পারে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হবে।
মির বালুচ অভিযোগ করেন, বেলুচিস্তান দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি নিয়ন্ত্রণে নিপীড়ন, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার। তাঁর দাবি, ২০২৫ সালের মে মাসে বালুচ জাতীয়তাবাদীরা পাকিস্তান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। তিনি জানান, “রিপাবলিক অব বেলুচিস্তান” ২০২৬ সালের শুরুতে ‘বেলুচিস্তান গ্লোবাল ডিপ্লোম্যাটিক উইক’ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।
নববর্ষ উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় মির বালুচ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে পরিচালিত সামরিক অভিযানের প্রশংসা করেন এবং বেলুচিস্তান ও ভারতের মধ্যে ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক সংযোগের কথাও উল্লেখ করেন।
চিঠিতে তিনি আরও বলেন, বেলুচিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার না করা হলে চীন ও পাকিস্তানের যৌথ সামরিক তৎপরতা এই অঞ্চলে নতুন সংকট সৃষ্টি করতে পারে। যদিও বেইজিং ও ইসলামাবাদ উভয়ই সামরিক সম্প্রসারণের অভিযোগ নাকচ করেছে।
১১৭ বার পড়া হয়েছে