ঢাকার বাজারে শীতের সবজি, মাছ ও মাংস : কমেনি দাম, কমেছে ক্রেতা
শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ২:৫৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ঢাকার কাঁচাবাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দামে তেমন স্বস্তি আসেনি। আলুর বাজারেও দেখা গেছে বড় ধরনের ভিন্নতা। নতুন আলু কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও পুরান আলু এখনো ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যদিকে মাছের বাজারে গত এক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে। রুই মাছের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত কমে বর্তমানে ৩২০ টাকা হয়েছে। তেলাপিয়া কেজি ১৩০ টাকা এবং পাঙ্গাস ১৮০ টাকায় স্থির রয়েছে। বড় শিং মাছ কেজি ৪০০ টাকা, চাপিলা ২৫০ টাকা এবং চাষের চিংড়ি ৬০০-৭০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তুল ডানডি মাছের দাম এক সপ্তাহে ৫০০ টাকা থেকে কমে ৪০০ টাকা হয়েছে। শোল ও টাকি মাছের দামও কেজিতে ৩০-৫০ টাকা কমেছে। চাষের পাবদা ৩৩০-৩৫০ টাকায় এবং ছোট পাবে ২৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। বড় আকারের পুঁটি ২০০ টাকায় নেমে এসেছে, যা আগে ২৫০ টাকার নিচে পাওয়া যেত না। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া নলা মাছের দাম কমে ২৫০ টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৩৫০ টাকা। বাজারে ৩০০-৩৫০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে কেজি ৮০০ টাকায়।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের সবজি থাকলেও দাম কমার হার প্রত্যাশামতো নয়। বেশিরভাগ সবজির দাম কমেছে কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা, তবুও তা সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। যাত্রাবাড়ীতে শিম কেজি ১৬০ টাকা, দেশি টমেটো ১০০ টাকা, শসা ৬০ টাকা, ফুলকপি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম ১২০ টাকা থেকে কমে ৮০ টাকায় নেমেছে। মরিচ দুই বাজারেই কেজি ১৬০ টাকায় রয়েছে। ধনে পাতার দাম কমে ১৪০-১৬০ টাকায় এসেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল কেজি ২০০ টাকা। আমদানি করা গাজর ১৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, করলা ও উস্তা ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মুরগি ও ডিমের বাজারেও সামান্য পরিবর্তন দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কমে ১৬৫ টাকা কেজিতে নেমেছে, যদিও সোনালি মুরগির দাম বেড়ে ২৯০ টাকা হয়েছে। দেশি মোরগ ৫৫০-৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শনিআখড়ায় গরুর মাংস পাওয়া যাচ্ছে কেজি ৭৫০ টাকায়, হাড় ছাড়া মাংস ৮০০ টাকা দরে।
ডিমের দামও কমেছে- সপ্তাহের ব্যবধানে ডজন প্রতি দাম কমেছে ৬ টাকা। বাজারে এক হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪২ টাকায়, আর ডজন ১২৫ টাকায়।
বাজারে ক্রেতা উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় বিক্রেতারা জানান, শীতের মৌসুমে মাছের চাহিদা কম থাকে। শুক্রবার সাধারণত বেশি বিক্রি হলেও এবার সকাল থেকেই ক্রেতা কম দেখা গেছে। মাছের দাম কমলেও ক্রেতার সংখ্যা কমে গেছে বলে জানান তারা।
১১৫ বার পড়া হয়েছে