সর্বশেষ

জাতীয়যোগ্যতার ভিত্তিতে নারীদের হাতে দেশ গড়ার কাজ দেয়া হবে: জামায়াতের আমির
দেশে ৩.০ মাত্রার হালকা ভূমিকম্প, ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই
দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম কমল
সারাদেশস্বাধীনতা যারা বিশ্বাস করেনি, তারাই বিভাজন সৃষ্টি করছে : কক্সবাজারে সালাহউদ্দিন
টাঙ্গাইলে জমিজমা নিয়ে বিরোধে হামলায় একজন নিহত
জয়পুরহাটে ৯ম পে-স্কেলের দাবিতে বিক্ষোভ ও সমাবেশ
জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রের মরদেহ সরিষার মাঠে উদ্ধার
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত আমিরের জনসভা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন
নরসিংদীতে ৭শ' বছরের ঐতিহ্যবাহী বাউল মেলা শুরু, ভক্ত ও পুণ্যার্থীর ঢল
ঝালকাঠিতে নিজের মাকে হত্যা করল মানসিক ভারসাম্যহীন মাদকাসক্ত ছেলে
কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম হত্যার বিচার দাবিতে মহিপুরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
১০ম গ্রেড কোটা প্রস্তাবের প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের মানববন্ধন
দৌলতপুরে বিজিবি'র অভিযানে শীর্ষ সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য আটক
চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযান: নেশাজাতীয় সিরাপ ও ৭টি গরু জব্দ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অন্যের জামিনপত্রে পালিয়েছে ফাঁসির আসামি, বরখাস্ত ৮
আন্তর্জাতিক১২ ঘণ্টার ব্যবধানে ফের বড় লাফ, ভরিতে স্বর্ণের দাম বাড়ল ৪ হাজার ৮২ টাকা
খেলাসাকিবকে পাকিস্তান সিরিজে খেলাতে চায় বিসিবি
জাতীয়

হারাতে বসা ঐতিহ্য: হালখাতা উৎসবের অবক্ষয়

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ ৭:০৭ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পয়লা বৈশাখ মানেই নতুন বছর, নতুন স্বপ্ন, আর এক চিরায়ত বাঙালি সংস্কৃতি— হালখাতা।

একসময় এই দিনে দোকানিরা পুরনো বছরের দেনা-পাওনা মিটিয়ে নতুন খাতা খোলার মাধ্যমে যাত্রা করতেন একটি সতেজ শুরুর দিকে। খরিদ্দারদের নিমন্ত্রণ করে মিষ্টিমুখ করানো, হাতে হাতে হালখাতার কার্ড পৌঁছে দেওয়া ছিল এক নৈসর্গিক প্রথা। কিন্তু সময়ের স্রোতে, প্রযুক্তির হাত ধরে ক্রমেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে এই ঐতিহ্য।

বিশেষ করে করোনার পরবর্তী সময়ে এবং গত কয়েক বছর রমজান, ঈদ ও বাংলা নববর্ষ একত্রে হওয়ায় উৎসবের আমেজ অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎসবের জৌলুশ কমেছে, কমেছে হালখাতার চর্চাও।

পয়লা বৈশাখকে সামনে রেখে পুরান ঢাকার বাংলাবাজার, শাঁখারীবাজার, ও তাঁতীবাজার ঘুরে দেখা গেল এক ভিন্ন চিত্র। দোকানে আগের মতো নেই হালখাতার সাজসজ্জা বা কার্ড ছাপানোর ধুম। এখন হিসাব রাখা হয় ডিজিটাল খাতায়— কম্পিউটারের এক্সেল শিটে বা মোবাইলের নোটপ্যাডে। ফলে লাল কাপড় মোড়ানো টালি খাতার গুরুত্ব প্রায় বিলুপ্তির পথে।

বাংলাবাজারের ‘এম. এ. মান্নান প্রোডাক্ট’-এর কার্ড ব্যবসায়ী শ্যামল চন্দ্র জানালেন, “আগের মতো আর কার্ড ছাপানো হয় না। এই বছরও কয়েকটা ছেপেছি, কিন্তু অর্ডার একেবারে কম।” তার মতে, বাংলার শতবর্ষী ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে।

একই বাজারের ‘ভাই ভাই পেপার অ্যান্ড স্টেশনারি’র আব্দুস সালাম বললেন, “মানুষ এখন কম্পিউটারেই হিসাব রাখে। টালি খাতা কেবল কিছু পুরনো ব্যবসায়ীর কাছেই সীমাবদ্ধ।”

শাঁখারীবাজারের পূজার সামগ্রীর দোকান ‘লক্ষ্মী ভাণ্ডার’-এর কৃষ্ণ সাহার কণ্ঠে ছিল আক্ষেপ— “আগে ঢাকঢোল পিটিয়ে হালখাতা হতো। এখন উৎসবটাই হারিয়ে যাচ্ছে। ডিজিটাল যুগ সব কিছু পাল্টে দিয়েছে।”

তাঁতীবাজারের ‘শরীফ জুয়েলার্স’-এর মাধব ধর যদিও সীমিতভাবে হালখাতার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে জানালেন, “রোজা, ঈদ আর দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপে মানুষ খরচে সচেতন। তবুও আশায় আছি, হালখাতা দিনটা হয়তো ভালো কাটবে।”

হালখাতার ইতিহাসও কম গৌরবময় নয়। ‘হাল’ শব্দটি ফারসি, যার অর্থ 'নতুন'। ১৫৫৬ সালে মোগল সম্রাট আকবর হিজরি সনের জটিলতা দূর করতে সৌরপঞ্জিকার ভিত্তিতে নতুন ক্যালেন্ডার চালু করেন, যেটি পরে ‘ফসলি সন’ থেকে হয়ে ওঠে ‘বাংলা সন’। তখন থেকেই চৈত্র মাসের শেষ দিনে জমিদাররা প্রজাদের কাছ থেকে কর আদায় করতেন এবং পয়লা বৈশাখে চলত আপ্যায়ন, মিষ্টিমুখ— যেটি কালের পরিক্রমায় রূপ নেয় হালখাতা উৎসবে।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে হয়তো প্রযুক্তি আমাদের জীবনে অনেক কিছু সহজ করে দিয়েছে, কিন্তু তার সাথে সাথে হারিয়ে যাচ্ছে এই জাতিগত আবেগের, সংস্কৃতির নিঃশব্দ স্মারকগুলো। হালখাতা শুধু হিসাবের খাতা নয়, এটি ছিল সমাজ, সংস্কৃতি, সম্পর্ক আর সৌজন্যের এক জ্বলজ্বলে চিত্র। সময়ের প্রয়োজনে এটি ডিজিটাল হতেই পারে, কিন্তু ঐতিহ্য হারিয়ে গেলে যে শেকড়টাই দুর্বল হয়ে যায়।

৩০৬ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন