রামুতে চাকমা কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টা: ধামাচাপা দিতে বালিশ চাপায় হত্যা
সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কক্সবাজারের রামু উপজেলায় ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে মায়া চাকমা (১৬) নামের এক আদিবাসী গৃহকর্মীকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মৃতদেহ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয় বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার। গত ১২ এপ্রিল দিবাগত রাতে রামুর পশ্চিম পাড়া মেরোরুওয়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত মায়া চাকমা উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের তেলখোলা গ্রামের ক্যউছিং চাকমার মেয়ে। সে গত প্রায় এক বছর ধরে রামুর মেরোরুওয়া গ্রামের সাধন বড়ুয়ার বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করে আসছিল।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত পারিবারিক সূত্র জানায়, গত মাসখানেক আগে বাবার সাথে মায়ার ফোনে কথা হয়েছিল। তখন সে বেশ হাসিখুশি ছিল এবং সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। বাবা তাকে বাড়িতে আসার কথা বললে মায়া জানায়, পহেলা বৈশাখের আগেই গৃহকর্তা সাধন বড়ুয়া নিজে তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেবেন। মেয়ের অনুরোধে বাবা তাকে আরও কয়েকদিন সেখানে থাকার অনুমতি দেন।
কিন্তু গত ১২ এপ্রিল সকালে মায়ার বাবা যোগাযোগের জন্য ফোন করলে সাধন বড়ুয়ার বাড়ির কেউ তা রিসিভ করেননি। তারা কাজে ব্যস্ত থাকতে পারেন ভেবে বাবা আর বারবার কল করেননি এবং পরে চার্জ না থাকায় তার ফোনটি বন্ধ হয়ে যায়। ওইদিন বিকেল আনুমানিক ৪-৫টার দিকে মায়ার খালার ফোনে সাধন বড়ুয়ার বাড়ি থেকে কল করে বলা হয়, “তোমরা তাড়াতাড়ি এখানে এসো।” এটুকু বলেই তারা কল কেটে দেয়।
মৃতদেহ উদ্ধার ও পরিবারের সন্দেহ খবর পেয়ে উদ্বিগ্ন পরিবার দ্রুত রামুর উদ্দেশে রওনা দেয়। রাত ৮টার দিকে তারা সাধন বড়ুয়ার বাড়িতে পৌঁছে দেখতে পান, সাদা কাপড় দিয়ে তাদের মেয়ের মৃতদেহ ঢাকা রয়েছে। মৃত্যুর কারণ জানতে চাইলে সাধন বড়ুয়ার পরিবার দাবি করে, মায়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
তবে নিহতের মা-বাবা এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেউই এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে মেনে নিতে পারেননি। তারা জানান, মায়ার গলায় ফাঁস লাগানোর কোনো আলামত ছিল না এবং তার আত্মহত্যার কোনো যৌক্তিক কারণও নেই। তাদের দৃঢ় সন্দেহ, মায়াকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।
অভিযোগের তীর প্রবাস ফেরত ছেলের দিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গৃহকর্তা সাধন বড়ুয়ার দুই ছেলে প্রবাসে থাকেন। তাদের মধ্যে একজন সম্প্রতি ফ্রান্স থেকে বাড়িতে এসেছেন। স্থানীয়দের এবং পরিবারের ধারণা, ওই ছেলেটিই মায়াকে ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং ব্যর্থ হয়ে বালিশ চাপা দিয়ে তাকে হত্যা করেছে।
প্রভাব খাটিয়ে মামলা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা এদিকে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সাধন বড়ুয়া নিহতের বাবাকে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য চাপ দেন। ক্যউছিং চাকমাকে তার দারিদ্র্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সাধন বড়ুয়া বলেন, "তোমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তোমরা গরিব মানুষ, মামলা করলে টাকা ছাড়া পুলিশ তোমাদের মামলা গ্রহণ করবে না। তুমি মেয়ের ঘটনা নিয়ে মামলা করো না। তার চেয়ে তোমার মেয়ের সাপ্তাহিক ক্রিয়ার সমস্ত খরচ আমি বহন করব। মামলা করার চিন্তা বাদ দাও।"
গৃহকর্তার মুখ থেকে এমন কথা শোনার পর নিহতের বাবা ক্যউছিং চাকমা প্রায় নিশ্চিত হয়েছেন যে তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবেই খুন করা হয়েছে। নিহতের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে এবং দ্রুত খুনিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছে।
১২৪ বার পড়া হয়েছে