পাবনা-সিরাজগঞ্জ নারী আসনে আলোচনায় ললিতা গুলশান মিতা
রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ২:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠনের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। ইতোমধ্যে এ আসনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল এবং সেই আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল। এ অবস্থায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেত্রীদের মধ্যে মনোনয়ন পাওয়ার দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে।
পাবনা–সিরাজগঞ্জ সংরক্ষিত নারী আসনেও একাধিক নেত্রী মনোনয়ন প্রত্যাশী। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন পাবনার ঈশ্বরদীর মহিলা দল নেত্রী ললিতা গুলশান মিতা। তিনি সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের উন্নয়নে কাজ করতে আগ্রহী। শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ও নারী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকার কারণে স্থানীয় পর্যায়ে তাকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চায় অনেকেই।
ঈশ্বরদী উপজেলার বাঁশেরবাদা গ্রামের আলমগীর কবিরের স্ত্রী ললিতা গুলশান মিতা দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জননী। তিনি প্রয়াত ডা. মোশাররফ হোসেন ও প্রয়াত রোজী হোসেন দম্পতির কন্যা। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট। তিনি ইংরেজিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে এলএলবি অধ্যয়নরত।
১৯৯৫–৯৬ সালে ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে পড়াশোনার সময় কলেজ শাখা ছাত্রদলের ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদিকার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ঈশ্বরদীর বাঁশেরবাদা ডিগ্রি (অনার্স) কলেজের সভাপতির দায়িত্বেও আছেন। এছাড়া তিনি পাবনা জেলা মহিলা দল ও ঈশ্বরদী পৌর শাখার ১ নম্বর সদস্য।
এর আগে তিনি জাতীয়তাবাদী মহিলা দল ঢাকা মহানগর উত্তর শেরেবাংলা নগর থানা শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ঈশ্বরদী উপজেলা মহিলা দল শাখার সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও তিনি দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া বাঁশেরবাদা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি।
তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে স্বর্ণপদকসহ একাধিক পদক অর্জন করেছেন। কর্মহীন নারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রায় ১,০০০ নারীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ প্রকল্পের সঙ্গেও তিনি সম্পৃক্ত। বিভিন্ন দুর্যোগকালীন সময়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অর্থায়নে তিনি সহায়তা প্রদান করেছেন।
ললিতা গুলশান মিতার স্বামী আলমগীর কবিরও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাদের বড় ছেলে মাহির তাজুয়ার ভুবন একজন জুলাই যোদ্ধা এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অনার্স তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। একমাত্র কন্যা আয়শা আঞ্জুমান কবির সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ছোট ছেলে মমিন তাজুয়ার গালিব ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৮ম শ্রেণির ছাত্র।
প্রতিক্রিয়ায় ললিতা গুলশান মিতা বলেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। বিশেষ করে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত নারীদের পাশে দাঁড়াতে চান। এজন্য তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং ইতোমধ্যে দলের চেয়ারম্যান বরাবর মনোনয়নের আবেদন করেছেন। দল তাকে মূল্যায়ন করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
১২৩ বার পড়া হয়েছে