কুয়াকাটায় আবারও মৃত ডলফিন, উপকূলের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৩৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত এলাকায় আবারও একটি মৃত ডলফিন ভেসে আসার ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর সৈকতের পশ্চিমাংশে পুরনো শুঁটকি পল্লী সংলগ্ন এলাকায় জোয়ারের পানির সঙ্গে প্রায় ৮ ফুট দৈর্ঘ্যের ডলফিনটি ভেসে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃত ডলফিনটির শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এর চামড়া উঠে গেছে এবং পেট ফেটে যাওয়ার মতো গুরুতর ক্ষতও দেখা গেছে।
স্থানীয় উপ-রা সদস্য আব্দুল জলিল প্রথম ডলফিনটি দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি ইরাবতী ডলফিন, যা সাধারণত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপকূলীয় অগভীর জল ও বড় নদীগুলোতে বিচরণ করে। এ প্রজাতিটি বর্তমানে বিপন্ন হিসেবে বিবেচিত এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, এমন ঘটনা পরিবেশের জন্য অশনিসংকেত। ডলফিনের অস্বাভাবিক মৃত্যু উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের অবনতির ইঙ্গিত দেয় এবং দ্রুত কারণ অনুসন্ধান জরুরি।
উপকূল পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু জানান, বারবার মৃত ডলফিন ও কচ্ছপ ভেসে আসা প্রমাণ করে যে সামুদ্রিক পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা, প্লাস্টিক দূষণ এবং নৌযানের বেপরোয়া চলাচল এসব ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, ডলফিনটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি জোরদার এবং স্থানীয়দের সচেতন করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরে ডলফিন রক্ষা কমিটি, কুয়াকাটা পৌরসভা, বন বিভাগ এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে মৃত ডলফিনটি দাফন করেন।
সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
১৩০ বার পড়া হয়েছে