মানিকগঞ্জে ঝড়ের আঘাতে ভুট্টাচাষে ব্যাপক ক্ষতি, লোকসানের শঙ্কা
শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
অনুকূল আবহাওয়া ও সঠিক পরিচর্যায় ভুট্টার আশানুরূপ ফলন হলেও গত কয়েক দিনের ঝড়ে চাষীদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। জেলার সাতটি উপজেলার চরাঞ্চলসহ সব এলাকাতেই ভুট্টার ফলন ভালো হয়েছিল।
সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ গাছের মাঝে হালকা হলুদ রঙের ভুট্টার দেখা মিললেও তা ঝড়ের কবলে পড়ে এখন মাটিতে নুয়ে পড়েছে। জমি প্রস্তুতে যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা ফেরত পাওয়া নিয়ে চাষীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলায় অগ্রহায়ণ/পৌষ মাসে চাষিরা জমি প্রস্তুত করে ভুট্টা বপন করেন। ভুট্টা পরিপক্ব হতে সময় লাগে আনুমানিক চার থেকে সাড়ে চার মাস। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে জমিতে সেচ, সার, কীটনাশকসহ নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন হয়। কিন্তু হঠাৎ চলতি চৈত্র মাসে কয়েক দফা ঝড়ো হাওয়ার কারণে জমিতে থাকা ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক গাছ মাঝখান থেকে ভেঙে গেছে এবং কিছু গাছ গোড়া থেকে উপড়ে গিয়ে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। অথচ মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এই ভুট্টা ঘরে তোলার কথা ছিল। এতে চাষিরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সদর উপজেলার বাহারিচর এলাকার চাষী সুরুজ মিঞা বলেন, “আমাদের এলাকায় প্রচুর ভুট্টা চাষ হয়, চলতি মৌসুমেও ভালো আবাদ হয়েছিল। প্রতি বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদে আমাদের খরচ হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ফলন ভালো হয়েছিল, ঝড় না হলে প্রতি বিঘায় খরচ বাদে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার ভুট্টা বিক্রি করা যেত। এখন জমিতে থাকা ভুট্টার যে অবস্থা, তাতে উৎপাদন খরচ তোলাও কঠিন হয়ে পড়বে।”
ঘিওরের বালিয়াখোড়া এলাকার চাষী রহিমুদ্দিন বলেন, “প্রথম দফার ঝড়ে তেমন ক্ষতি হয়নি, তবে টানা কয়েক দিনের ঝড়ে ভুট্টা গাছ মাটিতে পড়ে গেছে। পড়ে যাওয়া গাছের মোচা মাটির সংস্পর্শে এসে পচতে শুরু করেছে। এই মৌসুমে ভুট্টা থেকে লাভ তো হবেই না, বরং বড় ধরনের লোকসানে পড়তে হবে।”
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজী বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ভুট্টার ফলন আশানুরূপ হয়েছিল। চাষীদের মাঠপর্যায়ে সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে গত কয়েক দিনের ঝড়ে কৃষকের জমিতে থাকা ভুট্টা গাছের কিছু ক্ষতি হয়েছে। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে এই ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন চাষিরা।
১৮৯ বার পড়া হয়েছে