কলাপাড়ায় আ.লীগ কার্যালয়ের তালা ভেঙে দখলের অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে সেটি দখল করে গুদামঘর হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা দলের এক নেত্রীর স্বামীর বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে বিএনপি বলছে, এ ঘটনার সঙ্গে দলটির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে ওই দলীয় কার্যালয়টি একাধিকবার হামলার শিকার হয়। তখন ভবনের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, এসি ও সিলিং ফ্যানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে গৃহস্থালির জিনিসপত্র ও জ্বালানি কাঠ রেখে সেটি গুদাম হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সালমা বেগম লিলির স্বামী মিলন বেপারী—এমনটাই দাবি স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের।
ঘটনার পরপরই ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠেন। তারা দাবি করেন, রাজনৈতিক কার্যালয়টি সরকার থেকে দীর্ঘমেয়াদি বন্দোবস্ত নিয়ে বৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল।
অন্যদিকে, বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, এ ঘটনার সঙ্গে দলীয় কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই এবং এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়।
তবে অভিযুক্ত মিলন বেপারী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো তালা ভাঙেননি, বরং জায়গাটি আগে থেকেই খোলা ছিল। তার দাবি, ঝড়ে গাছ পড়ে যাওয়ায় সেগুলো কেটে সেখানে রাখা হয়েছে। ওই জমি তাদের নিজের বলেও দাবি করেন তিনি এবং বলেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে, যা তিনি পরে গণমাধ্যমে উপস্থাপন করবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সালমা বেগম লিলি জানান, তাদের পারিবারিক সূত্র অনুযায়ী জায়গাটি তার শ্বশুরের ছিল। আগে সেখানে ফলের গাছ ও একটি টিনের ঘর ছিল, যেখানে তার শ্বশুর রেশনিং ডিলারশিপ পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ নেতারা জোরপূর্বক গাছ কেটে সেখানে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে শব্দদূষণ ও ভোগান্তি সহ্য করতে হয়েছে বলেও দাবি তার।
অন্যদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয় এবং দল এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না।
১২৫ বার পড়া হয়েছে