সর্বশেষ

সাহিত্য

ছোট রম্য গল্প: “তালের রস আর হিসাবের গরমিল”

হাবীব চৌহান
হাবীব চৌহান

শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬ ৬:৪৯ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
পথে যেতে যেতে হঠাৎই সিদ্ধান্ত—আজ তালের রস খেতেই হবে। সিদ্ধান্ত খুব গভীর ছিল না, কিন্তু বাস্তবায়ন ছিল একেবারে দ্রুত। ফলে আমরা সোজা গিয়ে দাঁড়ালাম রাস্তার ধারের তালের রস বিক্রেতার সামনে।

আমাদের দেখে তিনি মৃদু হেসে বললেন,
— কি খবর!
আমরা বললাম,
— এইতো! দেন।
কিছুটা খোঁজ-খবরের ভঙ্গিতে জিজ্ঞেস করলাম,
— কখন নামানো? কেমন হবে?
তিনি শান্তভাবে বললেন,
— ভালো হবে। একটু আগেই নামানো হয়েছে। আবার আনতে গেছে।
— কে গেছে?
— আমার ছেলে।
তারাপুর এলাকার এই বৃদ্ধ মানুষটি বহু বছর ধরে তাল গাছের মাথা থেকে জীবন নামিয়ে আনছেন—আর রাস্তার ধারে বসে তা বিক্রি করেন। বয়স হয়েছে, তবুও গাছে ওঠা কমেনি।
আমি জিজ্ঞেস করলাম,
— আপনি এখনো গাছে ওঠেন?
— হ্যাঁ, উঠি।
— কিভাবে ওঠেন?
উত্তর দেওয়ার আগেই চমন ভাই ঝটপট বলে দিলেন,
— আঁকড়াওয়ালা বাঁশ বেয়ে ওঠেন।
লোকটি হেসে ফেললেন—চমন ভাইকে যেন তিনি আগেই চেনেন!
আমরা চার গ্লাস রস খেলাম। বসে বসে গল্প চলছে—আজকের রস কালকে বিক্রি হয় কি না, কেউ ঘোলা চায় কি না—এমন কত কথা।
সবশেষে হিসাবের পালা। আমি জিজ্ঞেস করলাম,
— চার গ্লাসের কত?
উনি কিছু বলার আগেই চমন ভাই ঘোষণা দিলেন,
— ১০/১২ টাকা তো হবেই! এখন তো সব দামই বেড়েছে!
বিক্রেতা একটু অবাক হয়ে তাকালেন। তারপর ধীরে বললেন,
— চমন ভাই, কবে রস খাইছেন?
চমন ভাই গর্বভরে বললেন,
— সেই কালে আটআনা গ্লাস খেতাম!
বিক্রেতা হাসলেন,
— ৩০/৪০ বছর আগে আটআনা-চারআনা ছিল। এখন তো ২০ টাকা গ্লাস।
চমন ভাই একটু ভেবে বললেন,
— তাহলে তো খুব বেশি বাড়েনি!
শেষে বিক্রেতা নরম গলায় বললেন,
— আপনাদের চার গ্লাস ৮০-১০০ টাকা হতো। কিন্তু পরিচিত মানুষ, ৫০ দিলেই হবে।
আমরা পরম তৃপ্তিতে ৫০ টাকা দিয়ে রওনা দিলাম—আর পেছনে রয়ে গেল তালের রস, সময়ের হিসাব আর চমন ভাইয়ের অদ্ভুত গণিত!

লেখক: হাবীব চৌহান, সাংবাদিক

১৪১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সাহিত্য নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন