চাঁপাইনবাবগঞ্জের চরাঞ্চলে চিনাবাদামের সফল চাষ, কৃষকেরা স্বপ্ন বুনছেন
বৃহস্পতিবার , ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২:১৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ৮টি চরবেষ্টিত ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
বাংলাদেশে চরাঞ্চলের কৃষি আধুনিকীকরণ এবং দরিদ্র কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে “চর এলাকায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)”। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন চরাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পতিত জমির যথাযথ ব্যবহার এবং কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি দেশের ৩৫টি জেলার ১২১টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ৮টি চরবেষ্টিত ইউনিয়নে ইতোমধ্যেই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সদর উপজেলার সবচেয়ে অবহেলিত ইউনিয়ন আলাতলি ও শাহজাহানপুরের রাণীনগর ও হাকিমপুর ব্লকে জেগে উঠা চরে প্রায় ৬০০ বিঘা জমিতে চিনাবাদামের চাষ করা হয়েছে। বিস্তীর্ণ চর এলাকা সবুজে পরিণত হচ্ছে, আর কৃষকরা স্বপ্ন বুনছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ সুনাইন বিন জামান জানান, গত বছর রাণীনগরে জেগে উঠা চরে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে প্রায় ১০০ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষাবাদ করা হয়েছিল। এ বছর চর উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ জিয়াউর রহমানের সহযোগিতায় রাণীনগর ও হাকিমপুর ব্লকের ২৪ জন কৃষককে চিনাবাদামের প্রদর্শনী প্রদানের মাধ্যমে চাষাবাদের সহায়তা করা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) চাঁপাইনবাবগঞ্জের সহযোগিতায় বিস্তীর্ণ চরে চিনাবাদামের চাষাবাদ করা হয়েছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠ পরিদর্শনের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে গতবারের তুলনায় এবছর প্রায় ৫০০ বিঘা পতিত জমিতে চাষ হচ্ছে, যা কৃষকদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার আরও জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত চিনাবাদামের ফসলের সার্বিক অবস্থা ভালো এবং সর্বোচ্চ ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে প্রায় ৪৮০০ মন চিনাবাদামের ফলন হবে, যার বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ২ কোটি টাকা।
রাণীনগর চরের সরেজমিনে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত তাদের খোঁজখবর রাখছেন এবং বিভিন্ন কৃষি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। রাণীনগর ব্লকের কৃষক মিলন আলী জানান, গত বছর কৃষি অফিসারের সহযোগিতায় তিনি প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছিলেন। লাভ হওয়ায় এবছর প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন। তার মতো ফরিদ উদ্দীন, সেন্টু, শামীম সহ অন্যান্য চরের কৃষকরাও কৃষি বিভাগের সহায়তায় চাষ করে ভাগ্য উন্নয়নের স্বপ্ন বুনছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলার উপপরিচালক ড. মোঃ ইয়াছিন আলী বলেন, চর প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো এলাকা উপযোগী ফসলের আবাদ বৃদ্ধি করে পতিত জমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। সদর উপজেলার প্রত্যন্ত চরে চিনাবাদামের চাষাবাদ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যা পতিত জমির ব্যবহার বৃদ্ধি করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কৃষি বিভাগ এই সাফল্য ধরে রাখবে এবং নতুন প্রযুক্তি দ্রুত প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এ ধরনের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রয়োজন রয়েছে।
১২১ বার পড়া হয়েছে