সাইদ হত্যা মামলায় রায়: ট্রাইবুনালের রায়ে সন্তুষ্টি কম, পরিবার হতাশ
বৃহস্পতিবার , ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ২:০৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাইদ হত্যা মামলায় আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের দেওয়া রায়ে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড এবং তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অন্যান্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়াকে নিয়ে তার সহযোদ্ধা, বাবা ও মা তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তারা অনেকের লঘু দণ্ডকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করে ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন।
আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে। তবে এই রায় রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। রায় ঘোষণার পর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা কোনো আনন্দ মিছিল করেনি।
অন্যদিকে শহীদ আবু সাইদের সহযোদ্ধারা দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ায় সন্তুষ্ট হলেও ঘটনার নির্দেশদাতা উচ্চ পদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা এবং অন্যান্য অপরাধীদের লঘু দণ্ড দেয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, এই রায়ের মাধ্যমে জুলাই আন্দোলনের মহান নেতার প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করা হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর শহীদ আবু সাইদের বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুন গ্রামে অবস্থানরত সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন।
শহীদ আবু সাইদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, “দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলেও ওই পুলিশদের নির্দেশদাতা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান ডিসি ক্রাইম মারুফসহ উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদেরও ফাঁসি হবে বলে আমি আশা করেছিলাম। কিন্তু তাদের ৫–৭ বছর করে সাজা দেওয়া হয়েছে। ঘটনার আগে আবু সাইদকে মারধর ও মাথায় আঘাত করার জন্য ছাত্রলীগ নেতাদেরও লঘু দণ্ড দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতা পোমেল বড়ুয়া সহ অন্যদেরও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত ছিল। এজন্য আমি ন্যায্য বিচার পাইনি বলতে পারি। এছাড়া অনেকের সাজা কম দেওয়া হয়েছে, এটা কীভাবে বিচার হলো, প্রশ্ন করেন তিনি।”
শহীদ আবু সাইদের মা মনোয়ারা বেগম রায় ঘোষণার পর চরম হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “বড় বড় অপরাধীরা কম সাজা পায়নি ঠিক হয়নি। আমরা দ্রুত রায় বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছি।”
রায় ঘোষণার পর শহীদ আবু সাইদের সহকর্মীরা তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। বেরোবির প্রধান ফটকে, যেখানে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আবু সাইদ, সেই চত্বরে ছিলো সুনসান নীরবতা। বুক টান করে, মহু মহু গুলির মুখে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ আবু সাইদ হত্যার রায়ে শিক্ষার্থীরা একেবারে হতবাক হয়েছেন বলে জানালেন তার সহযোদ্ধারা।
শহীদ আবু সাইদের সঙ্গে সরাসরি আন্দোলনে অংশ নেওয়া বেরোবি শিক্ষার্থী সুমন ও আশিক রায় ঘোষণার পর জানান, “আমরা অনেক দিন ধরে শহীদ আবু সাইদ হত্যা মামলায় দ্রুত বিচার দাবি করে আসছিলাম। রায় ঘোষণার পর দুই পুলিশ সদস্যকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকীদের একেবারে লঘু দণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করেছিলাম হুকুমদাতা পুলিশ কর্মকর্তাদেরও ফাঁসি দেওয়া হবে, কিন্তু তা করা হয়নি। ৫–৭ বছর করে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমরা তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছি।”
জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা, বেরোবি শিক্ষার্থী আতিক বলেন, “আবু সাইদকে গুলি করে হত্যার আগে বেরোবি ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া মাহমুদসহ কয়েকজন আন্দোলন থেকে সরে আসার জন্য আবু সাইদকে মারধর করেছে, গলা টিপে ধরেছে। তাদেরসহ আরও অনেকের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল।”
অন্যদিকে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকত আলী আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের রায়কে স্বাগত জানান। তবে তিনি নিরীহ কেউ সাজা পেয়েছে কিনা বা অপরাধীরা তাদের অপরাধের জন্য উপযুক্ত সাজা পেয়েছে কিনা সে বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া জানাননি। তিনি বলেন, “আমাকে রায় পর্যালোচনা করতে হবে। আমি জুলাই আন্দোলনের সময় এখানে ছিলাম না। রায়ে সত্যিকার দায়ীরা সাজা পেয়েছে কিনা, এটা তার পরিবার ও সহযোদ্ধারা বলতে পারবে।”
১১৮ বার পড়া হয়েছে