কুমারখালীতে সেতুর টোল ঘিরে ফের উত্তাপ, রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি এমপির
বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:৩২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর গড়াই নদীর ওপর নির্মিত সৈয়দ মাছুদ রুমী সেতুর টোল আদায়কে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। টোল পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন।
বুধবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, টোল আদায়ের নামে একটি ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ চলছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে এমন কোনো উদ্যোগ মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে কুষ্টিয়া–রাজবাড়ী মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। একই সঙ্গে অটো, সিএনজি ও ভ্যানচালকসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) জানিয়েছে, দীর্ঘদিন টোল আদায় বন্ধ থাকায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। কুষ্টিয়া সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম বলেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন লাখ টাকা হিসেবে ইতোমধ্যে প্রায় ১৮ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকায় সেতুটির টোল আদায়ের ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ১০ এপ্রিল থেকে টোল আদায় শুরুর প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে টোলপ্লাজা এলাকা পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শনের সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৪ সালে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কের গড়াই নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর টোল আদায় বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভের সময় টোলপ্লাজায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এরপর থেকে সেতুটিতে টোল আদায় বন্ধ রয়েছে।
পরবর্তীতে চলতি বছরের ১০ মার্চ নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে সওজ। এতে ‘মেসার্স থ্রী স্টার এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তিন বছরের জন্য টোল আদায়ের দায়িত্ব পায়।
তবে স্থানীয় বিরোধিতা ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টোল আদায় শুরু করা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
১৭৪ বার পড়া হয়েছে