সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ‘শোচনীয় পরাজয়’ বরণ: মারিয়া; যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দুই পক্ষেরই বিজয়ের দাবি 

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:৪৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর “বিনা উসকানিতে একপাক্ষিক ও আগ্রাসী হামলা” চালিয়েছে। তিনি বলেন, এই যুদ্ধে উভয় দেশই “শোচনীয় পরাজয়” বরণ করেছে।

স্পুতনিক রেডিওকে বুধবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাখারোভা বলেন, “আমাদের দেশ শুরু থেকেই, প্রথম বিবৃতিতেই বলেছিল, এই আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। এ পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই।”

এদিকে যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—দুই পক্ষই নিজেদের ‘বিজয়’ দাবি করছে। ইরানের ওপর ‘দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিতের’ ঘোষণার পর উভয় পক্ষই সাময়িক এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে তাদের “পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়” অর্জিত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “এটা পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়। শতভাগ। এ নিয়ে কোনো প্রশ্নের অবকাশ নেই।”

হোয়াইট হাউস থেকেও দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে “যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক বিজয়” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, “এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিজয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের অসাধারণ সামরিক বাহিনী এটি সম্ভব করেছে। তিনি (ট্রাম্প) হরমুজ প্রণালী আবারও খুলে দিয়েছেন।”

লেভিট আরও বলেন, “আমরা ৩৮ দিনের মধ্যে আমাদের মূল সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছি এবং তা অতিক্রম করেছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সক্ষমতা কখনো হালকাভাবে নেবেন না, যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এগিয়ে নিতে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ।”

অপরদিকে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের “ঐতিহাসিক বিজয়” হিসেবে ঘোষণা করেছে। হামলা স্থগিতের ঘোষণার এক দিন পর বুধবার তারা একটি বিবৃতিতে এই দাবি করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ইরান তাদের ১০ দফা প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রহণ করতে বাধ্য করেছে। ওই প্রস্তাবে রয়েছে ভবিষ্যতে আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণের কথা।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবার ইরান যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তি আলোচনা শুরু করবে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ওই আলোচনায় চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হবে। তবে, “এর অর্থ এটি নয় যে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে।”

তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের পরিকল্পনা জমা দিয়েছে এবং ওয়াশিংটন ইরানের প্রস্তাবিত নীতিগুলোকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে।

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির খবরে রাজপথে উল্লাস করেছে তেহরানের বাসিন্দারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, আলোচনা সর্বোচ্চ ১৫ দিন চলবে, তবে সময় আরও বাড়ানো যেতে পারে। যেকোনো চুক্তি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত হতে হবে। যদি তাদের দাবি পূরণ না হয়, ইরান সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে সতর্ক করেছে।

ট্রাম্প এই বিরতিকে “দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি হরমুজ প্রণালী আবার খুলে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত। ১০ দফার ইরানি প্রস্তাব আলোচনার জন্য “একটি গ্রহণযোগ্য ভিত্তি” প্রদান করেছে।

১২১ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন