ট্রাম্পের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংসের হুমকি ‘সত্যিই অগ্রহণযোগ্য’ : পোপ চতুর্দশ লিও
বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ৯:৪০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে পোপ চতুর্দশ লিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিরল সমালোচনা করেছেন।
পোপ বলেছেন, ইরানের ‘পুরো সভ্যতা’ ধ্বংসের হুমকি দেওয়া ‘সত্যিই অগ্রহণযোগ্য’। খবরটি জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।
গত মঙ্গলবার পোপ সরাসরি ট্রাম্পের নাম উল্লেখ না করলেও, তিনি কার প্রতি ইঙ্গিত করছেন তা স্পষ্ট ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইতালিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় পোপ বলেন, “আজ যেমনটি আমরা সবাই জানি, ইরানের পুরো জাতির বিরুদ্ধে একটি হুমকি দেওয়া হয়েছে। আর এটি সত্যিই অগ্রহণযোগ্য।”
ট্রাম্পের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে এই মন্তব্য করেছেন পোপ। তিনি আরও বলেন, “এখানে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইনের বিষয় রয়েছে। তবে তার চেয়েও বড় বিষয় হলো, এটি একটি নৈতিক প্রশ্ন, যা সামগ্রিকভাবে একটি জাতির মঙ্গলের সঙ্গে জড়িত।”
এর আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে যাতায়াত করতে না দেয়, তবে তিনি ইরানের প্রতিটি সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেবেন। আন্তর্জাতিক আইনে বেসামরিক অবকাঠামো উদ্দেশ্যমূলকভাবে ধ্বংস করা নিষিদ্ধ। ট্রাম্পের এই হুমকির পর আন্তর্জাতিক স্তরে, ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি জাতিসংঘ ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যাপক নিন্দা উঠে।
পোপ হিসেবে তাঁর প্রথম বছরে চতুর্দশ লিও সরাসরি মার্কিন রাজনীতি নিয়ে কথা বলা এড়িয়ে চললেও, তিনি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ এবং সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কেউ কেউ এই যুদ্ধকে খ্রিষ্টীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন, তবে পোপ তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গত মার্চে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মার্কিন নাগরিকদের প্রতি ‘যিশুখ্রিষ্টের নামে’ যুদ্ধে জয় ও সৈন্যদের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এরপর পোপ সতর্ক করে বলেন, যিশু “যারা যুদ্ধ করে তাদের প্রার্থনা শোনেন না, বরং তা প্রত্যাখ্যান করেন।”
গত সপ্তাহে ইস্টার পূর্ববর্তী এক বিশেষ প্রার্থনায় পোপ বলেন, খ্রিষ্টীয় আদর্শকে ‘আধিপত্য বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা দিয়ে বিকৃত করা হয়েছে, যা যিশুখ্রিষ্টের পথের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।’ এরপর ইস্টারে গত রোববার সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে হাজার হাজার ভক্তের সামনে তিনি আবারও শান্তির আহ্বান জানান। পোপ বলেন, “উৎসবের এই দিনে আসুন আমরা সংঘাত, আধিপত্য ও ক্ষমতার সব আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করি এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত এই বিশ্বে শান্তির জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি।”
ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প, অন্যথায় ধ্বংসযজ্ঞের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তবে পোপ লিও কূটনীতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “টেবিলে ফিরে আসুন। কথা বলুন। শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধান খুঁজুন।”
এর কয়েক ঘণ্টা পর, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, তিনি ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত চুক্তির ‘খুব কাছাকাছি’ অবস্থানে আছেন।
১১৭ বার পড়া হয়েছে