সর্বশেষ

ফেবু লিখন

সাবেক স্পিকারের ১৮ মাসের অদৃশ্য অধ্যায়

হেলাল উদ্দিন
হেলাল উদ্দিন

মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ১:৩২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
"সাবেক স্পিকারের মুখভঙ্গি প্রকাশ করছে—১৮ মাস নিরাপদ আশ্রয়ের পরও তিনি শান্ত ও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।" ৫ আগস্ট। সংসদ ভবনের চারপাশে উত্তাল জনতা। দেওয়াল টপকে ঢুকছে মানুষ, আর ভিতরে যেন অন্য কোনো জগৎ।

জনরোষ থেকে বাঁচতে আতঙ্কিত ভীত সন্ত্রস্ত স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে যান। লোকমুখে গুঞ্জন, তারা সংসদ ভবনের নিচতলায় থাকা একটি গোপন কক্ষ এবং সুড়ঙ্গ ব্যবহার করেছেন।

বাস্তবে জানা গেছে, যখন ছাত্র-জনতা সংসদ ভবনে হামলা চালায়, তখন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং অন্যান্য মন্ত্রী এমপিরা সংসদ ভবনের স্পিকারের কক্ষের পাশাপাশি একটি অফিস কক্ষে আশ্রয় নেন।

নিরাপত্তা কর্মীরা যে কক্ষটিতে তাদেরকে রাখেন সেখানে কোন বাথরুম ছিল না। সামনে ভাঙ্গা টেবিল-চেয়ার সাজিয়ে রাখা হয় যাতে বুঝা যায় কক্ষে কেউ নেই।

প্রায় ৮ ঘন্টা ছোট্ট একটি কক্ষে সবাই আটকে ছিলেন। এক পর্যায়ে পানির অভাবে স্পিকার অসুস্থ হয়ে পড়েন।

গভীর রাতে, একজন সাংবাদিকের টেলিফোনে খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল এসে স্পিকারসহ অন্যান্য মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নিরাপদভাবে তুলে নিয়ে যায় ক্যান্টনমেন্টে।

ক্যান্টনমেন্টে অবস্থানকালে বাইরে জনতার উত্তেজনা এবং প্রশাসনের চাপ বজায় থাকে। সংবাদমাধ্যম থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু স্পিকার।

হঠাৎ একদিন খবর আসে, তিনি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে ‘চেক-আউট’ করেছেন। অথচ তাকে বের হতে কেউ দেখেনি। এটি আরও বাড়িয়ে দেয় রহস্যের আবরণ।

২ সেপ্টেম্বর। সরকার পতনের ২৭ দিন পর, বঙ্গভবনের টেবিলে আসে এক অদ্ভুত চিঠি—স্পিকারের পদত্যাগপত্র। কিন্তু তিনি নিজে কোথাও নেই। ডিজিটাল যুগে এনালগ চিঠি পাঠিয়ে তিনি যেন বোঝাতে চেয়েছেন, “আমি আছি, আবার নেইও।” প্রশাসন ও জনগণ—সবাই হতবাক।

এরপর আসে দীর্ঘ ১৮ মাসের ‘মাস্টারক্লাস’। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে খুঁজছে, কিন্তু কোথাও ঠিকানা মেলে না। তবু জানা যায়, তিনি আত্মগোপনে থেকেও পাসপোর্ট নবায়নের ফর্ম জমা দিয়েছেন।

প্রশাসন তাকে খুঁজছে, আর তিনি শান্তভাবে বসে অনলাইন ফর্ম পূরণ করছেন—এক ধরনের ‘প্রশাসনিক কমেডি’।

সবচেয়ে অবাক প্রশ্ন হলো—ডঃ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কীভাবে এত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে পারলেন। সরকারি নজরদারি, প্রশাসনের খোঁজ—সবকিছুকে ছাপিয়ে তিনি ছিলেন এক অদৃশ্য ছায়া।

৬ এপ্রিল ২০২৬। ধানমন্ডির পরিচিত বাসভবনে। রাত সাড়ে চারটা। ডিবি টিম দরজায় কড়া নাড়ল।

সাবেক স্পিকার তখন গভীর ঘুমে। তিনি জেগে উঠলেন নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করলেন গ্রেপ্তারের জন্য।

১৮ মাস পর শেষ পর্যন্ত তিনি গ্রেপ্তার হলেন। সেই সুড়ঙ্গের রহস্যময় যাত্রা যা শুরু হয়েছিল সংসদ ভবনের নিচে, শেষ হলো ধানমন্ডির নিজের বিলাসবহুল বাসভবনের ড্রয়িং রুমে।

সাবেক স্পিকারের চেহারা দেখেই বোঝা যায়—দুশ্চিন্তার কোনো ছাপ নেই। শান্তময়, যেন একেবারেই অসহায় বা আতঙ্কিত নয়। তবে আগের চেয়ে অনেক শুকিয়ে গেছেন।

প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে—এই ১৮ মাস তিনি কোথায় ছিলেন? কীভাবে প্রশাসনকে ফাঁকি দিলেন? নিজের বাসা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া কি ছিল বোকামি, নাকি কোনো গভীর পরিকল্পনার অংশ?

সবচেয়ে বড় রহস্য—এত দিন ধরে অদৃশ্য থাকা একজন রাষ্ট্রীয় ব্যক্তিত্ব কীভাবে পুরো দেশের নজর এড়িয়ে চললেন?


লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।
(লেখাটি লেখকের ফেসবুক থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে)

১৩৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
ফেবু লিখন নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন