বরিশালে বিদ্যুৎ সংকট: তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন ও শিল্পে স্থবিরতা
সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ৩:০৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বরিশাল নগরীসহ আশপাশের নলছিটি ও ঝালকাঠি এলাকায় ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিনের বেশিরভাগ সময়ই লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, পিক আওয়ারে যেখানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৯৫ মেগাওয়াট, সেখানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ মিলছে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। একইভাবে অফপিক সময়ে ৭৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতি মোকাবেলায় বাধ্য হয়ে রেশনিং পদ্ধতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) বরিশাল কার্যালয় জানায়, চাঁদমারী-১ ও আমানতগঞ্জ-২—এই দুটি জোনের আওতায় মোট ৩৮টি ফিডারের মাধ্যমে বরিশাল নগরী, ঝালকাঠি ও নলছিটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করা হচ্ছে। সীমিত সরবরাহের কারণে রোটেশন পদ্ধতিতে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে।
নগরীর ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়ানগর এলাকার বাসিন্দা মাইদুল ইসলাম সুজন জানান, রমজান ও ঈদের সময় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে তীব্র লোডশেডিং। বর্তমানে দিনে-রাতে চার থেকে পাঁচবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, ফলে গরমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
এদিকে বরিশাল বিসিক শিল্পনগরীর উদ্যোক্তা মাহাবুব আলম বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন শিল্প মালিকরা।
ওজোপাডিকো বরিশাল-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ৩৮টি ফিডারে পালাক্রমে সরবরাহ দিতে হচ্ছে। একইসঙ্গে ওজোপাডিকো বরিশাল-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জুরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ ঘাটতি কমানো না গেলে এই পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি সম্ভব নয়।
ক্রমবর্ধমান তাপদাহের মধ্যে বিদ্যুতের এই সংকটে নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
১২৩ বার পড়া হয়েছে