পাবলিক পরীক্ষা, চাকরির ইন্টারভিউ কোথাও নকলের সুযোগ নেই : শিক্ষামন্ত্রী
শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের কোনো পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিবকে আইনের আওতায় আনা হবে।
এমনকি প্রতিষ্ঠানের বাথরুমে নকল পাওয়া গেলেও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। বাইরে থেকে নকলের সহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “কাউকে নকল করতে দেওয়া হবে না, নকলের সহযোগিতাও সহ্য করা হবে না।”
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডসহ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্র সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে কোনো শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে নম্বর কম-বেশি দিলে তার বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাবলিক পরীক্ষা হোক বা চাকরির ইন্টারভিউ—সব ধরনের পরীক্ষায় একই নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
তিনি স্মরণ করেন, ২০০১ সালে কুমিল্লার আমড়াতলী স্কুল থেকে নকলবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছিল, যেখানে দুইজন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে তারেক রহমান এর উৎসাহে নকলবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের সৎ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে তা হবে “সদগায়ে জারিয়া”। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিজের “ইবাদতখানা” উল্লেখ করে বলেন, এই দায়িত্ব নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে পালন করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৭২ সাল থেকে দেশে নকলের প্রচলন শুরু হয় এবং ২০০১ সাল পর্যন্ত তা চলমান ছিল। তবে পরবর্তী সময়ে আবার নকলের বিস্তার কেন ঘটেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার মতে, সরকারের নীতির ওপর নির্ভর করেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে এবং এখন তারা একটি পরিবর্তিত বাংলাদেশ গড়তে চায়। বর্তমান প্রজন্ম অন্যায় মেনে নেবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জসিম উদ্দিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মান্নান এবং কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূইয়াসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ডেপুটি কন্ট্রোলার মো. কবির আহমেদের সঞ্চালনায় সভায় সভাপতিত্ব করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. শামছুল ইসলাম।
১৩০ বার পড়া হয়েছে