২৭ দিন পর উৎপাদনে ঘোড়াশাল-পলাশ সার কারখানা
শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
দীর্ঘ ২৭ দিন বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি। তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ থেকে বন্ধ থাকা নরসিংদীর পলাশে অবস্থিত এই কারখানাটি ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় গ্যাস সংযোগ পুনরায় পাওয়ার পর উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে।
কারখানার মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. ফখরুল আলম জানান, সরকারি নির্দেশনার কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। পুনরায় গ্যাস সংযোগ পাওয়ার পর দ্রুত উৎপাদন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং বর্তমানে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। পূর্ণ উৎপাদনে ফিরতে আরও কিছু সময় লাগবে।
কারখানা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানান, দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর একটি সার কারখানাকে পূর্ণ উৎপাদনে আনতে সাধারণত ৫–৬ দিন সময় লাগে। সে হিসেবে আগামী ৪ বা ৫ এপ্রিলের মধ্যে শতভাগ উৎপাদনে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষম এই কারখানাটি দেশের সার সরবরাহ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
২৭ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টন সার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। তবে দ্রুত উৎপাদন শুরু হওয়ায় বাজারে সম্ভাব্য চাপ অনেকটাই কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশে সার কারখানাগুলোর উৎপাদন পুরোপুরি প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। এই কারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য দৈনিক ৭১–৭২ পিএসআই গ্যাস চাপ প্রয়োজন হলেও ৫২–৫৩ পিএসআই চাপেও সীমিত উৎপাদন চালানো সম্ভব। সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের প্রভাবে বিদ্যুৎ ও শিল্পখাতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বিভিন্ন খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
বর্তমানে দেশের কৃষি খাতে বোরো ধানের মৌসুম চলমান, যা সার ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে কারখানা বন্ধ থাকায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও পুনরায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নরসিংদীর উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজুল হক জানান, বিদ্যমান মজুতের কারণে জুন মাস পর্যন্ত সারের ঘাটতি হবে না। পাশাপাশি কারখানায় পুনরায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় কৃষি খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়েনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিল্পখাতে টেকসই উৎপাদন বজায় রাখতে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। একই সঙ্গে বিকল্প জ্বালানি ও এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন, নচেৎ ভবিষ্যতে এ ধরনের উৎপাদন বিঘ্নের ঝুঁকি থেকেই যাবে।
উল্লেখ্য, প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই সার কারখানাটি ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। বার্ষিক ১০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষম এই কারখানাটি গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি, ৮ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন সার উৎপাদন করেছে।
১০৭ বার পড়া হয়েছে