মোংলায় প্রতিমন্ত্রীর মানবিক উদ্যোগ: সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ফিরে পাচ্ছেন চোখের আলো
শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬ ৭:০৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
“বেঁচে থাকলে অন্ধত্ব প্রতিরোধ করুন”—এই দৃঢ় অঙ্গীকারকে সামনে রেখে মোংলা ও রামপালে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিশাল বিনামূল্যে চক্ষু শিবির।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মেগা সিটি লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এই চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে মোংলা ও রামপালসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি উপজেলার ১০ সহস্রাধিক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ নতুন করে চোখের আলো ফিরে পেতে যাচ্ছেন।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মোংলার পেড়িখালী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী এই আই ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মেগা সিটি লায়ন্স ক্লাবের আয়োজনে বিশাল এই চিকিৎসা কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এবারের ক্যাম্পে সেবার মান নিশ্চিত করতে ১০ জন বিশেষজ্ঞ চক্ষু চিকিৎসকসহ মোট ৩০ সদস্যের একটি দক্ষ মেডিকেল টিম দিনভর রোগীদের সেবা প্রদান করেন। পুরো কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার জন্য মাঠজুড়ে ৬টি পৃথক বুথ স্থাপন করা হয়। সকাল থেকেই মোংলা, রামপাল, ফকিরহাট, বাগেরহাট সদর, মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা এবং দাকোপসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার রোগী ক্যাম্পে ভিড় জমান। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, দিনশেষে প্রায় ১০ হাজারের বেশি রোগীকে ব্যবস্থাপত্র ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
চক্ষু রোগীদের জন্য বিনামূল্যে লেন্স সরবরাহ এবং জটিল অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ক্যাম্পে আসা রোগীদের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ছানি, নেত্রনালী, চোখের বাড়তি মাংস বৃদ্ধি এবং ট্যারিজমসহ বিভিন্ন জটিল রোগ শনাক্ত করে রোগী বাছাই করা হয়। শিশু থেকে শুরু করে শতবর্ষী বৃদ্ধ—সকলের জন্য বিনামূল্যে লেন্স, ওষুধ এবং চশমা প্রদান করা হবে।
যেসব রোগীর জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, তাদের প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। এসব রোগীকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে ‘ঢাকা দৃষ্টি আই’ হাসপাতালে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নতমানের লেন্স স্থাপনসহ অস্ত্রোপচার করা হবে। অপারেশনের পর সুস্থ হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা ও আবাসনের ব্যবস্থা করে পুনরায় নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। যাতায়াতসহ এই বিশাল ব্যয়ের সম্পূর্ণ ভার ব্যক্তিগতভাবে বহন করছেন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
শরণখোলা থেকে ছানি রোগ নিয়ে আসা পরিমল বাবু বলেন, “গরিব হওয়ার কারণে ভালো ডাক্তার দেখাতে পারিনি। তাই পরিচিতদের কাছ থেকে শুনে এখানে এসেছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা, যেন চোখ দুটি ভালো থাকে।”
দাকোপ থেকে আসা ৭২ বছর বয়সী ইব্রাহিম আলম বলেন, “গত ৪-৫ বছর ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছি। কোনো কাজ করতে পারি না। চোখ দিয়ে পানি পড়ে, সামনে কিছু দেখতে পাই না, ঠিকমতো হাঁটতেও পারি না। ডাক্তার দেখানোর পর যদি আল্লাহ সুস্থ করেন।”
মোংলা উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে আসা ৬৫ বছর বয়সী ললিতা হালদার বলেন, “টাকার অভাবে ভালো ডাক্তার দেখাতে পারিনি। ছেলেটি পরের কাজ করে সংসার চালায়। তাই এখানে এসেছি, যদি চোখ দুটি ভালো হয়ে যায়।”
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘ দেড় দশক ধরে এই সেবামূলক কার্যক্রমের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে এই মানবিক উদ্যোগের সূচনা করেন তিনি। গত ১৫ বছরে ধারাবাহিক এই কার্যক্রমের মাধ্যমে লক্ষাধিক চক্ষু রোগীকে বিনামূল্যে আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। উপকূলীয় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে এই চক্ষু শিবির এখন আশার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, “মানুষের সেবা করাই পরম ধর্ম। এই অঞ্চলের অনেক মানুষ অর্থের অভাবে চোখের চিকিৎসা করাতে পারেন না এবং অন্ধত্বের দিকে ধাবিত হন। আমার লক্ষ্য হলো এই অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ করে দেওয়া। যতদিন বেঁচে থাকব, এই সেবামূলক কার্যক্রম ইনশাআল্লাহ অব্যাহত থাকবে।”
এলাকার সুশীল সমাজ ও সুবিধাভোগীরা এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, এ ধরনের নিয়মিত উদ্যোগ উপকূলীয় জনপদের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং অন্ধত্ব নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
১২২ বার পড়া হয়েছে