সর্বশেষ

সারাদেশ

কুমারখালীর সেই মেধাবী ওমরের উচ্চশিক্ষার দায়িত্ব নিল 'স্বপ্ন'

হাবীব চৌহান, কুষ্টিয়া
হাবীব চৌহান, কুষ্টিয়া

বৃহস্পতিবার , ২ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
দারিদ্র্যের কঠিন বাস্তবতাকে জয় করে অদম্য মেধা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন কুমারখালীর শিক্ষার্থী ওমর।

আর্থিক সংকটের কারণে তার উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। তবে এমন পরিস্থিতিতে তার পাশে দাঁড়িয়েছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল চেইন শপ স্বপ্ন। তারা ওমরের উচ্চশিক্ষার সম্পূর্ণ ব্যয় বহনের দায়িত্ব নিয়েছে।

"বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির টাকার জন্য মাঠে শ্রমিকের কাজ করছেন এক মেধাবী শিক্ষার্থী ওমর" বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। আর তা দেখেই ওমরের পাশে এগিয়ে আসে স্বপ্ন। বৃহস্পতিবার সকালে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ মেধাবী ওমরের বাড়িতে গিয়ে সাড়ে তিন লক্ষ টাকার প্রতীকী চেক তুলে দেন।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় ওমর সারাদেশে ৯০তম স্থান অর্জন করেন। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫১তম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪৩তম স্থান পেয়ে ভর্তির সুযোগ লাভ করেন। কিন্তু পারিবারিক আর্থিক সংকটের কারণে তার এই সাফল্য বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাকে শ্রমিক হিসেবেও কাজ করতে হয়েছে।

ওমরের জীবনসংগ্রাম ছোটবেলা থেকেই শুরু। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে তার বাবার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে তার মা অন্যের বাসায় কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছেন। এমন প্রতিকূলতার মধ্যেও ওমর পড়াশোনায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেন। তিনি জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুল থেকে ২০২৩ সালে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে এইচএসসিতে ৪.৯২ পয়েন্ট নিয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে কুষ্টিয়ার একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষকের সহায়তায় বিনামূল্যে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতি নিয়ে তিনি এই সাফল্য অর্জন করেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ওমর বলেন, আমার পরিবার আমাকে বই-খাতা কিনে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না। শিক্ষকরা আমাকে সবসময় সহযোগিতা করেছেন। এখন স্বপ্ন যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে, এতে আমি ও আমার মা অনেকটা নিশ্চিন্ত হয়েছি। এখন আমি মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারব।

এ বিষয়ে স্বপ্ন কর্তৃপক্ষ জানায়, সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। তাদের বিশ্বাস, নিয়মিত ও সময়োপযোগী সহায়তা একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। সুবিধাবঞ্চিত মেধাবীদের পাশে থাকার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
ওমরের এই সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি দেশের হাজারো সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে সেই অনুপ্রেরণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্বপ্ন।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বলেন, গণমাধ্যমের কল্যাণে অদম্য মেধাবী রাজুর স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। রাজুদের মতো সকল মেধাবীদের স্বপ্ন পূরণে সমাজের সকল বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন তাঁর মা ফাতেমা খাতুন, ছোট ভাই রাফিউল, স্বপ্ন সুপার শপের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক রাসেল আল মামুন প্রমূখ।

১৫২ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন